নাসিম রুমি: ষাটের দশকে যার হাত ধরে পর্দায় পা রেখেছিলেন, সেই কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানকে ‘একুশে পদক’ উৎসর্গ করলেন আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা।
১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিষেক ঘটে ববিতার, সেখানে রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
অভিনয় নৈপুণ্যে কেবল বাংলাদেশে নয়, উপমহাদেশের শীর্ষ অভিনয়শিল্পীদের একজন হয়ে ওঠেন। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানে তাই এ বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।
সেই অনুভূতি প্রকাশ করে ববিতা বললেন, তিনি ভীষণ আনন্দিত। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সবার প্রতি।
ববিতা বলেন, “কৃতজ্ঞতা জানাই আমার অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী এবং সিনেমার দর্শকদের, যাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি ববিতা হয়ে উঠতে পারতাম না। যারা আমাকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছেন, তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
ভাষার স্মৃতিকে ধারণ করা এ পদক পেয়ে ভাষা শহীদদেরও স্মরণ করেন ববিতা।
তিনি বলেন, “মায়ের ভাষার মান বাঁচাতে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা দেশের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধায়।”
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ সহোদর শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন জহির রায়হান।
তাকে স্মরণ করে ববিতা বলেন, “আমার চলচ্চিত্রে আগমন জহির রায়হানের হাত ধরে। আমার এই পদক, আমি তাকে উৎসর্গ করতে চাই। জহির রায়হান যদি আমাকে সিনেমায় না আনতেন, তাহলে হয়ত আমার সিনেমা করা হত না। আজকের ববিতাও হয়ে উঠতাম না।”
১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটে ববিতার জন্ম। আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। চলচ্চিত্র জগতে তার প্রথম নাম ছিল ‘সুবর্ণা’। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরজ কি নিচে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই তার নাম ‘ববিতা’ হয়।
স্বামী ইফতেখার আলমের মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে অনিককে নিয়েই ববিতার সংসার। কানাডায় লেখাপড়া শেষ করে সেখানেই চাকরি নিয়ে থিতু হয়েছেন অনিক। বছরের বেশিরভাগ সময় ছেলের সঙ্গে কানাডাতেই থাকেন ববিতা।
একুশে পদক নিজের হাতেই গ্রহণ করবেন জানিয়ে ববিতা বলেন, “এত বড় একটি সম্মান, আমি নিজের হাতেই গ্রহণ করব।”
পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ববিতা কাটিয়েছেন অভিনয়ে। ৭০-৮০ দশকে ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয় করে দেশের গণ্ডি পেরিয়েও পরিচিতি পান।
