দাম্পত্য জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শোবিজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা- সমালোচনা। এমন আবহে সমালোচনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন হিরণের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য। তার দাবি, ‘হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি।’ এবার বাবার বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন হিরণ-অনিন্দিতার মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়।
হিরণ-অনিন্দিতার একমাত্র সন্তান নিয়াসা। বয়স ১৯। বাবা রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করার পর খড়গপুরে থাকাকালীন দূরত্ব বেড়েছিল তাদের সঙ্গে। এখন মা ছাড়া তার জীবনে দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তির আর গুরুত্ব নেই বলেও জানান তিনি।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে মা অনিন্দিতার সঙ্গে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন নিয়াসা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তি তার জীবনে এখন আর কোনও গুরুত্ব রাখে না।’
নিয়াসা লিখেছেন, ‘যতদূর মনে পড়ে আমি ও আমার মা- বহুদিন দুজনেই একে অপরের জন্য ছিলাম। আর মায়া-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে তুমি প্রতিটি ভূমিকাই যত্ন নিয়ে পালন করেছ। তুমিই আমার মা, আমার বাবা, আমার পথপ্রদর্শক ও আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তুমিই আমার জীবনের নায়ক মা।’
হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ঋত্বিকা গিরি। বয়স ২১। পেশায় তিনি মডেল। মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে নিজেই দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানান হিরণ। তবে কিছুক্ষণ পরেই সেই পোস্ট সরিয়ে ফেলেন তিনি। ততক্ষণে ভাইরাল দম্পতি। একই দিন নায়কের দ্বিতীয় বিয়েকে ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনিন্দিতা বলেন, ‘আমাদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। আমার স্বামীর নাম হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর বিয়ে হয়েছিল আমাদের। গত বছর আমাদের বিয়ের ২৫ বছর পূর্ণ হয়। আমাদের ১৯ বছরের মেয়ে রয়েছে। সে যাকে বিয়ে করেছে তিনি তাদের মেয়ের থেকে মাত্র দু’বছরের বড়। ওর মনে যা প্রভাব পড়ছে তা আমি বোঝাতে পারব না। ওকে সামলানোই এখন আমার মূল উদ্দেশ্য।’
হিরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অনিন্দিতা বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমার ও আমার মেয়ের উপর অত্যাচার চলছিল। কিন্তু শুধুমাত্র আমার মেয়ের মুখ চেয়ে এবং পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এত দিন চুপ ছিলাম। সবাই তো ভাবেন মারধর করা মানেই অত্যাচার। কিন্তু আমি আর মেয়ে যে কী মানসিক অত্যাচারের শিকার, তা বলে বোঝাতে পারব না। এর মধ্যেও আমি নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবসময় ভেবেছি হিরণ সম্পর্কে কিছু বললে আমার মেয়ের গায়েও কাদা আসবে। কিন্তু ও (হিরণ) যেটা করল এবার তো আমাকে নড়েচড়ে বসতেই হবে। ও নিজেই সব বাঁধ ভেঙে দিল। এই বিয়ে তো বেআইনি।’
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের হরনাথ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘নবাব নন্দিনী’ চলচ্চিত্র দিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের অভিষেক হয়। ২০০৮ সালে ‘ভালবাসা ভালবাসা’, ‘চিরসাথী’ দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পান তিনি। এরপর ‘মন যে করে উড়ু উড়ু’, ‘লে হালুয়া লে’, ‘মাচো মস্তান ‘সহ বেশকিছু সিনেমার অভিনয় করেন।
এছাড়া ২০২১ সালের তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। একই বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসনে জয়লাভের মাধ্যমে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
