নাসিম রুমি: ‘মান্না বেঁচে থাকলে শাকিবের এতটা ওপরে ওঠা কষ্টকর ছিল’ সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এমন মন্তব্য করেছেন ঢালিউড অভিনেতা সোহেল রানা। এই গুণী অভিনেতা মনে করেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে তখন মান্নার একক আধিপত্য ছিল। একই সঙ্গে দর্শকপ্রিয় ছিলেন প্রয়াত মান্না। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওপরে ওঠা যেকোনো নায়কের জন্যই কঠিন সময় ছিল।
এ সময় সোহেল রানা বলেন, ‘চলচ্চিত্র অঙ্গনে মান্নার নিজস্ব একটা ভাষা ছিল। টাঙ্গাইল তথা ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেশ ছিল তাঁর কথায়। এ ভাষা মান্নার কণ্ঠে মানিয়ে যেত। এটা দর্শক পছন্দ করতেন। যেটা অন্য কারও ছিল না। পুরো দেশেই সে তাঁর ভাষাকে পপুলার করেছে। এমন ঘটনা ঢালিউডে খুবই কম।’
‘মান্নার অভিনয়টা ছিল সব সময়ই ভিন্ন। অভিনয়ের দক্ষতা তাঁর মধ্যে যেমন ছিল, তেমনি যেকোনো চরিত্রে সহজে মানিয়ে যেতেন। দর্শকদের তিনি কবজায় রাখতে পারতেন।’ এমনটাই মনে করেন সোহেল রানা। ‘আমাদের সময় কিন্তু দেখা গেছে; দু-একজন আমাদের পক্ষে বলতেন, আবার কেউ আমাদের রাজ্জাকের বিপক্ষে বলতেন। কিন্তু মান্না যখন ছিলেন, তখন দর্শকেরা শুধু মান্নার কথা বলতেন। মান্নার বিপরীতে কেউ কথা বলতেন না। মান্নার মতোই এখন শাকিবের কাছাকাছি কেউ নেই। শাকিব আনপ্যারালাল,’ বলেন সোহেল রানা।
এর আগে শাকিব খান এক সাক্ষাৎকারে নায়ক মান্না প্রসঙ্গে একই কথা বলেছিলেন, ‘চলচ্চিত্রের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন মান্না ভাই। একেবারেই আনপ্যারালাল। তাঁর প্রতিটি কাজে ছিল আলাদা সিগনেচার। ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্য মৃত্যুর আগপর্যন্ত কাজ করে গেছেন। অশ্লীলতা যখন চরমে, সমসাময়িক অনেকেই চলচ্চিত্র থেকে সরে গিয়েছিলেন, তখনো হাল ছাড়েননি মান্না ভাই। দুঃসময়ে চলচ্চিত্রকে আগলে রেখেছিলেন। সে সময় উপহার দিয়েছেন জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্র। দর্শকদের করেছিলেন হলমুখী। আমার সৌভাগ্য, স্ট্রাগল পিরিয়ডে কয়েকটি চলচ্চিত্রে এই মানুষের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পেরেছি। ভীষণ মিস করি প্রিয় মান্না ভাইকে।’
সোহেল রানা মনে করেন, ‘মান্না মানেই একটা সময় ছিল সিনেমা হিট। যে কারণে প্রযোজকেরা তাঁকে নিয়ে লগ্নি করতে ভরসা পেতেন। এখন শাকিবের সিনেমায় লগ্নি করতে এই ভরসা পান।’ ১৭ বছর আগে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রের সফল নায়ক মান্নার পরিসমাপ্তি ঘটে। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। এর আগের দিন রাতে শুটিং করে বাসায় ফিরেছিলেন এই নায়ক মান্না।
