নাসিম রুমি: ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার অভিনয়ের স্মৃতি রয়ে যাবে প্রতিটা দর্শকদের হৃদয়ে। তার অভিনীত শেষ ছবি ‘আইসিইউ’ এখন কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং তার প্রতিভাকে শেষবারের মতো বড় পর্দায় দেখার এক আবেগঘন দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাইতো বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে প্রয়াত অভিনেতা রাহুলের অভিনীত শেষ এই সিনেমা।
পরিচালক সৌভিক দে’র এই ছবিটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। ছবির মূল কেন্দ্রে রয়েছে তিন যুবক, যারা তাদের বাড়িওয়ালার হাত থেকে বাঁচতে একটি মজার ছলে ‘প্র্যাঙ্ক’ বা কৌতুক করে। কিন্তু সেই ছোট ঘটনাটিই অপ্রত্যাশিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বিনোদনের আবরণে মোড়া এই ছবির পরতে পরতে রয়েছে এক বিশেষ সতর্কবার্তা, যা বর্তমান প্রজন্মের ডিজিটাল জীবনধারার ওপর আলোকপাত করে।
শুটিং সেটে রাহুলের নিষ্ঠা এবং অভিনয় দক্ষতা নিয়ে পরিচালক সৌভিক দে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে বলেন,রাহুল শুধু একজন দক্ষ অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সেটের প্রাণ। প্রতিটি দৃশ্যে তার গভীরতা আমাদের মুগ্ধ করত। আজ তিনি নেই, কিন্তু এই ছবির প্রতিটি ফ্রেম তার উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেবে।‘
সহকর্মীদের কাছে রাহুল ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য পথপ্রদর্শক। সেটের আড্ডা থেকে শুরু করে কাজের মুহূর্ত,সবখানেই তার ইতিবাচক শক্তি পুরো ইউনিটকে উজ্জীবিত রাখত।
নির্মাতা আরও জানান, ছবিটির ডাবিং চলাকালীন রাহুল হেসে বলেছিলেন, ‘এটা হয়তো আমার শেষ ছবি’। তখন সেই কথাটিকে নিছক রসিকতা মনে করে উড়িয়ে দিলেও আজ তা এক নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। চিত্রনাট্যকার অভিষেক ভট্টাচার্যের এই ছবিতে রাহুলের সেই কাজ এখন এক অনন্ত স্মৃতির স্বাক্ষর হয়ে থাকল।
এই চলচ্চিত্রটিতে রাহুলের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন আরিয়ান ভৌমিক, শ্রীমা ভট্টাচার্য, শ্রীলেখা মিত্র, দেবরাজ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।
