English

29 C
Dhaka
বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
- Advertisement -

রোমান্টিক থেকে যেভাবে অ্যাকশন নায়ক উজ্জ্বল

- Advertisements -

নাসিম রুমি: ‘সমাধান ছবির অসাধারণ রোমান্টিক এ গানে শাবানার বিপরীতে উজ্জ্বলের লুক আর অভিনয় অনবদ্য। শাবানার বিপরীতে ‘অনুভব’ ছবির ‘যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম/সদরঘাটের পানের খিলি তারে বানায় খাওয়াইতাম’ এ গানটিও সুপারহিট। এমনকি শাবানার বিপরীতে ‘ফকির মজনু শাহ’ ছবিতে ‘চোখের নজর এমনি কইরা’ এ গানটিও অসাধারণ। সত্তর/আশির দশকের রোমান্টিক ছবিতে উজ্জ্বল অন্যতম সেরা ছিলেন।

‘অনুরাগ’ ছবিতে ‘আমার মন তো বসে না গৃহ কাজে’ গানটিতে উজ্জ্বলের অসাধারণ সব এক্সপ্রেশন দেখলে তিনি যে বড়মাপের অভিনেতা তা প্রমাণ করে। ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছবির মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রটি তো তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ আপেল মাহমুদের কালজয়ী এ গানটিতে উজ্জ্বলের অভিনয় অসাধারণ। ‘নসিব’ ছবির ইমেজ পরিবর্তনকারী সাহসই উজ্জ্বলকে আরও সাফল্য দেয়।

নেগেটিভ রোলে কাজ করে দর্শকের আরও কাছাকাছি চলে যান। এ ছবিতে তাঁর অভিনয় সমাদৃত হয় এবং ‘মেগাস্টার’ বলা শুরু করে তাঁকে। রোমান্টিক থেকে অ্যাকশনে পদার্পণ করে সফল হন। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ রক্ত গরম করা এ গান শোনার সময় আমাদের মনের মধ্যে যে অনুভূতি হয়, মুক্তিযুদ্ধের সেরা সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী মুখ চোখে ভাসে চলচ্চিত্রে তিনি সেই সাহসী সন্তানের একজন।তাঁর নাম উজ্জ্বল। ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছবির এ গানে উজ্জ্বলের চোখ থেকে যেন আগুন ঝরে। পাকিস্তানি হানাদারদের হাত থেকে স্বাধীন দেশ গড়ার যে লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে গেছে ক্যাম্পে বসে এই গান যেন সেটাই বলছে তাঁর চোখেমুখে। তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একজন মেগাস্টার। উজ্জ্বল একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক।মূল নাম আশরাফ উদ্দিন আহমেদ।

জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৮ এপ্রিল পাবনায়। স্নাতকোত্তর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে। গণ অভ্যুত্থানের সময়কালে ঢাবির মাস্টারদা সূর্য সেন হলে থাকার সময় টিএসসিতে নাটকে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। সেই নাটকে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন চলচ্চিত্রের আরেক নামকরা অভিনেত্রী সুজাতা। এভাবেই অভিনয়ের দিকে তাঁর যাত্রা শুরু। ঢাকা টেলিভিশনে নিয়মিত নাটক করার সুবাদে প্রযোজকের নজরে আসেন এবং চলচ্চিত্রে সুযোগ পান। ১৯৭০ সালে পরিচালক সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বিনিময়’ ছবিতে অভিষেক ঘটে ঢাকার বাংলা চলচ্চিত্রে। প্রথম নায়িকা ছিল কবরী। সুভাষ দত্তের মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে উজ্জ্বল গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।

সত্তরের দশকে তিনি প্রযোজনায় নাম লেখান। পরিচালক মমতাজ আলীকে দিয়ে যখন ‘নালিশ’ ছবির নির্মাণ করান ঠিক তখনই পরিচালক তাঁকে ইমেজ বদলাতে বলেন। তাঁর পরামর্শে অ্যাকশন নায়ক হিসেবে পর্দায় আসেন এবং গ্রহণ করে নেয় দর্শক। এরপরেই মমতাজ আলী-র সাথে তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘নসীব’ ব্লকবাস্টার হয় এবং পুরোপুরি অ্যাকশন নায়কে পরিণত হন। তাঁকে ‘মেগাস্টার’ উপাধি দেয়া হয়। পত্র-পত্রিকায় ব্যবহৃত হতে থাকে এ উপাধি। ‘নসীব’-এর খল চরিত্রই মূলত তাঁকে এ খ্যাতি এনে দেয়। নিজের পরিচালিত ‘কারণ’ ছবিটিও ভূমিকা রেখেছিল।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ojq3
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন