নাসিম রুমি: দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে না–ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নৃত্যপরিচালক ইলিয়াস জাভেদ। আজ (বুধবার) রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বরেণ্য অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা। দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন তারা। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর শোকবার্তায় বলেন,‘জাভেদ আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তিনি আমার বহু ছবির নৃত্যপরিচালক ছিলেন, এমনকি আমার একটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন পাকিস্তানি, কিন্তু এই দেশকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই দেশের মানুষ ও শিল্পকে ভালোবেসে গেছেন। শান্তিতে ঘুমাও বন্ধু, তোমাকে আমি কখনো ভুলব না।’
১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন ইলিয়াস জাভেদ। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার পর দর্শকমহলে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ওই ছবিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন শাবানা।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন গুণী নৃত্যপরিচালক। তাঁর প্রকৃত নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রটি বিশেষভাবে স্মরণীয়।
১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্ম নেওয়া ইলিয়াস জাভেদ পরবর্তীতে স্বপরিবারে পাঞ্জাবে চলে যান। ১৯৮৪ সালে তিনি চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে—যিনি ভাষা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসায় হয়ে উঠেছিলেন এ দেশেরই একজন।
