নাসিম রুমি: যা আগে আগে কখনো ঘটেনি, তাই করে দেখালো পল থমাস অ্যান্ডারসনের নতুন ছবি ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ, ক্রিটিকস চয়েস, গোথামস থেকে শুরু করে ন্যাশনাল সোসাইটি—চলতি মৌসুমের প্রতিটি বড় সমালোচক পুরস্কার জিতে নিয়েছে এই সিনেমাটি।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র সমালোচকরা একটি ‘হাইভ মাইন্ড’ বা দলবদ্ধ চিন্তাধারার শিকারে পরিণত হয়েছেন। তাদের মতে, সিনেমাটি আজকের বামপন্থী ঘরানার রাজনৈতিক চিন্তাধারার একটি নিখুঁত প্রতিফলন।
ভেনেজুয়েলার মাদুরো শাসনের মতো একনায়কতান্ত্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান আমেরিকান রাজনীতির তুলনা টেনে সিনেমাটি যে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ বার্তা দিয়েছে, তা সমালোচকদের ব্যাপকভাবে তুষ্ট করেছে।
সমালোচকদের দাবি, সিনেমাটি চাইলে অ্যাক্টিভিস্টদের ফ্যান্টাসি বা কল্পনাপ্রসূত জগতকেও তুলে ধরতে পারত, কিন্তু এটি সরাসরি বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই বেছে নিয়েছে। শেক্সপিয়রের গল্পের মতো ধ্রুপদী আবেদন না থাকলেও, এটি একটি ‘সভ্যতার সংকট’ তুলে ধরেছে বলেই সমালোচকরা একে লুফে নিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ঘরানার সিনেমায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন নির্মাতা পল থমাস অ্যান্ডারসন।
‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’-এর পর এটিই তার প্রথম কোনো চলচ্চিত্র যা ‘সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ তকমা পেল। সমালোচকরা মনে করছেন, অ্যান্ডারসন এতদিনে তার প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছেন। ইউটিউবভিত্তিক সিনেমা বিশ্লেষক ‘দ্য অস্কার এক্সপার্ট’ এবং ‘ব্রাদার ব্রো’ এই সিনেমার জয়জয়কার নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হলো।
পুরস্কারের মঞ্চে ঝড় তুললেও সাধারণ দর্শকদের কাছে সিনেমাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লপ হলেও বিদেশের বাজারে ভালো ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। সাধারণ দর্শক ‘সিনার্স’ এবং ‘হ্যামনেট’কে অনেক বেশি পছন্দ করলেও সমালোচকদের কাছে সেগুলো পাত্তা পায়নি।
সমালোচকদের দৃষ্টিতে সেরা ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে ছিল ‘সিনার্স’। জনপ্রিয়তার এগিয়ে ছিল ‘হ্যামনেট’।
উল্লেখ্য, ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ ছবিতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এ ছাড়া অন্যান্য চরিত্রে শন পেন, টিয়ানা টেলর, চেজ ইনফিনিটি, বেনিসিও দেল তোরো, রেজিনা হল, উড হ্যারিস, আলানা হাইম ও টনি গোল্ডউইনসহ আরও অনেককে দেখা গেছে। সিনেমাটি টমাস পিঞ্চনের উপন্যাস ‘ভিনল্যান্ড’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে।
