এ কে আজাদ: আফগানী। কৌতুক অভিনেতা। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও সফল কৌতুক অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন আফগানী। চলচ্চিত্রের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি-অভিনয়শৈলী দর্শকদের বিনোদিত করতো। জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হিসেবে দর্শকমনে জায়গা করে নেয়া এই গুণি অভিনেতা একসময় হারিয়ে গেলেন সিনেমাপর্দা থেকে । দূরে সরে গেলেন চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে । চলে গেলেন সুদূর প্রবাসে, আমেরিকায়। সেখানেই চির বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে।
জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আফগানী’র ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল, আমেরিকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। প্রয়াণ দিবসে এই গুণি অভিনয়শিল্পীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি ।
প্রতিভাবান অভিনেতা আফগানী ১৯৫৪ সালের ২ ডিসেম্বর, পাকিস্তানের করাচিতে, জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর আসল নাম তাহমিনুল ইসলাম । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বি.এ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন ।
ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল তাঁর । কলেজজীবনে মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছেন।
১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মজিদ বঙ্গবাসী পরিচালিত ‘টারজান অব বেঙ্গল’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আফগানী প্রথম চলচ্চিত্রে আসেন । তাঁর অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে- বন্দিনী, মায়ামৃগ, প্রিয় বান্ধবী, দেবর ভাবী, জবাব, মাটির মানুষ, মোকাবেলা, ওমর শরীফ, বাহাদুর, দোস্তী, যাদুনগর, শাহজাদা, রাজমহল, নওজোয়ান, লুটেরা, যদি জানতেম, তাজ ও তলোয়ার, ঝুমকা, সুলতানা ডাকু, সিআইডি, সোনার সংসার, প্রেম কাহিনী, নিশানা, বাহাদুর নওজোয়ান, মানসী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, সুখে থাকো, সেলিম জাভেদ, ওস্তাদ সাগরেদ, নবাবজাদী, নবাব, রাজমহল, সোহাগ মিলন, বাহাদুর, সময় কথা বলে, বুলবুল-এ-বাগদাদ, হুর-এ-আরব, লাইলী মজনু, শীষনাগ, জুলি, ধনী গরিব, বিবাদ, রানী চৌধুরানী, আখেরী নিশান, আল-হেলাল, রাজনন্দিনী, ফুলের মালা, রকি, আমিই ওস্তাদ, ধর্ম আমার মা, নিয়ত, নিয়তির খেলা, দেবর ভাবী, চোর ডাকাত পুলিশ, বাসনা, বিরাজ বৌ, গর্জন, ধনরত্ন, কাজের বেটি রহিমা, ইত্যাদি।
জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হিসেবে আফগানী সিনেমাদর্শকদের স্মৃতিতে আজও অম্লান।
