নাসিম রুমি: বলিউডের কিংবদন্তি অনিল কাপুর। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক হৃদয় জয় করে এসেছেন। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ থেকে ‘নায়ক’ প্রতিটি ছবিতেই তিনি নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। এখন ৬৯ বছর বয়সে তিনি পর্দায় ফিরছেন এক ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে। এবার তাকে দেখা যাবে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক অর্জুন মৌর্যের ভূমিকায়। সুরেশ ত্রিবেণীর পরিচালনায় অ্যাকশন-ড্রামা ‘সুবেদার’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি যেন এক অভিনেতার দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা।
সুবেদার সিনেমার গল্প এগিয়েছে রাজস্থানের এক গ্রামীণ জনপদে। যেখানে আইনের চেয়ে অপরাধী সিন্ডিকেটের দাপটই বেশি। এই গ্রামে শান্ত, নিয়মিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক অর্জুন মৌর্য হঠাৎ করেই নিজেকে আবিষ্কার করেন এক অচেনা যুদ্ধক্ষেত্রে। তার অপরাধ? তিনি একজন সৎ মানুষ। তিনি বেছে নিয়েছিলেন নিভৃত জীবন, কিন্তু সমাজের দুর্নীতি আর অপরাধচক্র তাঁকে বারবার তাড়া করে।
শুধু বাইরের শত্রু নয়, অর্জুনকে সামলাতে হচ্ছে পারিবারিক কলহও। তার মেয়ে শ্যামার (রাধিকা) ভাঙা সম্পর্ক, সেই সম্পর্ক জোড়া লাগানোর টানাপোড়েন। এসব যেন তাঁর যুদ্ধকে আরও কঠিন করে তোলে। একদিকে সন্তানের আস্থা ফেরানো, অন্যদিকে সমাজের অসুরকে দমন করা। এ দুই চ্যালেঞ্জের মধ্যে দাঁড়িয়ে একজন বাবা ও সৈনিকের লড়াই নিয়েই ‘সুবেদার’।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ট্রেলার ইতোমধ্যে ভাইরাল সামাজিক মাধ্যমে। ট্রেলারে অর্জুনকে দেখা যায় চুপচাপ, সাধারণ এক মানুষ হিসেবে। তাঁকে অপমান করা হয়, পদদলিত করা হয়। কিন্তু যতক্ষণ না তিনি নিজের সীমারেখা টপকে ওঠেন। একবার যদি তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আর থামেন না। ট্রেলারের সবচেয়ে শিরদাঁড়া বেয়ে ওঠা সংলাপটি অনিল কাপুরের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে ‘আমি গুলি খেতে পারি, কিন্তু অসম্মান নয়।’
এই একটি সংলাপেই ধরা পড়েছে চরিত্রটির ভেতরের আগ্নেয়গিরি। শান্ত পিতৃহৃদয়ের ভেতরে যে তীব্র প্রতিবাদী সৈনিক লুকিয়ে আছে, সেই দ্বন্দ্ব ও শক্তির পরিচয় মেলে এই বাক্যে।
অনিল কাপুর নিজেই স্বীকার করেছেন, অর্জুন মৌর্য তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রগুলোর একটি। শুধু অভিনয় নয়, চরিত্রটির মানসিক গভীরতা ও শারীরিক উপস্থিতি ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে নিতে হয়েছে কঠোর প্রস্তুতি। চরিত্রের বাস্তবতা ধরে রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কাজ করেছেন।
ছবির প্রচারণার এক অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘এই চরিত্রে অভিনয় আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে একটি। একজন বাবা হিসেবে, একজন সৈনিক হিসেবে প্রত্যেকটি অনুভূতিকে নিজের ভেতর থেকে টেনে বের করতে হয়েছে।’
