নাসিম রুমি: বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গে মাহফুজা খাতুন শিরিনের দাম্পত্যজীবনের ৫৬ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ১৯৭০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আক্দ হয় তাঁদের। এরপর এই দম্পতি দীর্ঘ এই সময়ে জীবনের নানা চড়াই–উতরাই একসঙ্গে অতিক্রম করেছেন। বিনোদন অঙ্গনে তাঁদের সংসারজীবনকে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
বিনোদন অঙ্গনে হরহামেশা সংসার ভাঙার খবর শোনা যায়। এর মধ্যে যে কজন ব্যতিক্রম তাঁদের মধ্যে আবুল হায়াত অন্যতম। মেজ দুলাভাই মনিরুজ্জামানের ছোট বোন মাহফুজা খাতুন শিরিনের সঙ্গে কাটিয়ে দিয়েছেন দাম্পত্যজীবনের ৫৬টি বছর। এই দীর্ঘ সংসার জীবনযাপনের একটাই রহস্য—বিশ্বাস, আস্থা, ভালোবাসা, সুখ–দুঃখ সবকিছুকে হাসিমুখে ভাগ করে নেওয়া।
আবুল হায়াত ও মাহফুজা শিরিন দম্পতির দুই সন্তান—বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত। বিপাশা ও তৌকীর আহমেদ দেশের বাইরে থাকায় নাতাশা-শাহেদ ও তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কেক কেটে দাম্পত্যজীবনের ৫৬ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিওকলে ছিলেন বিপাশা–তৌকীর ও তাঁদের সন্তানেরা। ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই। এই দিনে তিনি নিজের ও পরিবারের জন্য সবার দোয়া কামনা করেছেন।
দাম্পত্যজীবনের ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেয়ে নাতাশা ও তাঁর অভিনয়শিল্পী স্বামী এবং সন্তানদের নিয়ে কেক কেটেছেন আবুল হায়াত ও মাহফুজা শিরিন।
দাম্পত্যজীবনের ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেয়ে নাতাশা ও তাঁর অভিনয়শিল্পী স্বামী এবং সন্তানদের নিয়ে কেক কেটেছেন আবুল হায়াত ও মাহফুজা শিরিন। ভিডিওকলে যুক্ত ছিলেন বড় মেয়ে বিপাশা হায়াত ও তাঁর অভিনয়শিল্পী স্বামী তৌকীর আহমেদ এবং তাঁদের সন্তানেরাও। আবুল বললেন, ‘মনে হচ্ছে ৫৬টা বছর দৌড়ে চলে গেল। ভাবছি, কেন এত তাড়াতাড়ি চলে গেল! মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন। পেছনে ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, সেই দিনগুলো তো ভালো ছিল। বাচ্চারা ছোট ছিল। আমরাও বিভিন্নভাবে সংগ্রাম করছিলাম। বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা, শিক্ষকদের কাছে নিয়ে যাওয়া, নাচের শিক্ষক, গানের শিক্ষক। তখন তো চাকরি করতাম। চাকরির মাঝে দুপুরের খাবারের ফাঁকে বাচ্চাদের আনা-নেওয়ার কাজ করতাম—এই যে একটা জীবন সেটার কথা খুব মনে পড়ছিল। এখন তো শুটিং থাকলে যাই, অন্যথায় বাসায় বসে লিখি, গান শুনি। এমন স্থবিরতা চাইনি কখনো।’
দাম্পত্যজীবনের ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেয়ে নাতাশা ও তাঁর অভিনয়শিল্পী স্বামী এবং সন্তানদের নিয়ে কেক কেটেছেন আবুল হায়াত ও মাহফুজা শিরিন।
আবুল হায়াত প্রায়ই বলেন, তাঁর জীবনে এখন পর্যন্ত যা কিছু অর্জন তাঁর পেছনে স্ত্রীর অবদান অনেক বেশি। আবুল হায়াতের বাইরের জীবন যেমন বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে এগিয়ে দিয়েছেন, তেমনি ঘরের যাবতীয় বিষয়ও হাসিমুখে সামলেছেন। আবুল হায়াত বললেন, ‘বলে না, প্রত্যেক সফল মানুষের পেছনে একজন নারী থাকেন। যদিও এটা কল্পকথা কিন্তু আমার জীবনে এটা শতভাগ সত্য। শিরিন যখন আমার জীবনে আসে, তখন আমি স্ট্রাগলিং। অর্থনৈতিকভাবেও সংগ্রাম করছিলাম। সেখান থেকে আমরা কীভাবে সারভাইভ করেছি, ভেসে উঠেছি, প্রত্যেকটা পদে তাঁর পরামর্শ, সমর্থন এগুলো পেয়েছি। আরেকটা কথা বলি, সারা জীবন আমি ব্লেসড উইথ গেস্ট। আমাদের বাড়িতে সব সময় অতিথিরা আসতই। খুলনা, রাজশাহী, ফরিদপুর—সব জায়গা থেকে আত্মীস্বজনেরা যেমন আসত, বন্ধুবান্ধবেরাও এসে থাকত। কিন্তু ওই দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও আমরা হাসি-আনন্দে, আলু ভর্তা, ডাল ডিম দিয়ে ভাত খেয়ে দিন পার করেছি। শিরিন সবকিছু মাথা ঠান্ডা করে হাসিমুখে সামাল দিত। তখন কিন্তু আমার এই সচ্ছল জীবন ছিল না। আল্লাহর রহমতে, আমার কারও কাছে হাত পাততে হয়নি।’
