নাসিম রুমি: উপমহাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। তার প্রয়াণে শোকাহত ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা।
রোববার (দুপুর ১২টা) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে আগের দিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরপরই গভীর শোক ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান রুনা লায়লা। তিনি বলেন, পৃথিবীর বড় বড় দু’জন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মুঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।’
নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলব—আজ করব, কাল করব—এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।”
রুনা লায়লার কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ আর বেদনার ভার, ‘যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয় ‘
উপমহাদেশের সঙ্গীত ইতিহাসে আশা ভোঁসলে ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অসংখ্য কালজয়ী গান দিয়ে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছেন।
