English

27 C
Dhaka
শনিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
- Advertisement -

কিন্তু আমি আজও তোমার স্ত্রী: নন্দিনী

- Advertisements -

নাসিম রুমি: ভারতীয় বাংলা সিনেমার দাপুটে অভিনেতা তাপস পাল। ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মারা যান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে নন্দিনী পালের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন। বেঁচে থাকলে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) তাদের ৪১তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতেন। স্বামীর স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছেন নন্দিনী। বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে না-বলা কিছু কথা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই তারকাপত্নী।

বিয়ের বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন নন্দিনী; সঙ্গে দীর্ঘ একটি ক্যাপশন। তাতে নন্দিনী বলেন, “তুমি শারীরিকভাবে আমার সঙ্গে নেই ছয় বছর হয়ে গেল। কিন্তু আমি কখনো তোমার স্ত্রী হওয়া বন্ধ করিনি। মানুষ আমাকে বিধবা বলতে পারে, কিন্তু আমার মন ও জীবনে আমি আজও তোমার স্ত্রী এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাই থাকব।”

স্বামী তাপস পালকে হৃদয়ে ধারণ করে বেঁচে আছেন নন্দিনী পাল। তার ভাষায়—“আমি প্রতিদিন তোমাকে নিজের ভিতরে নিয়ে বেঁচে থাকি। আমি লোহা, পলা আর বিবাহিত নারীর সব চিহ্ন সম্মান আর বিশ্বাসের সঙ্গে পরি। তুমি যখন পাশে ছিলে, তখন সিঁদুর খুব একটা পরতাম না। কিন্তু আজ যদি ইচ্ছে হয়, আমি পরব, যেমন আগে পরতাম। এই চিহ্নগুলো যদি স্বামীর মঙ্গল কামনার জন্য হয়, তাহলে আমি সেগুলো পরার সম্পূর্ণ অধিকার রাখি। কারণ আমি শুধু তোমারই স্ত্রী এবং আজীবন তোমার মঙ্গলই কামনা করব।”

স্বামীর সম্মানে এখনো সিঁদুর পরেন নন্দিনী। এসব বিষয় নিয়ে মানুষের কটু কথাও শুনেন তিনি। এ তথ্য স্মরণ করে নন্দিনী পাল বলেন, “আমি তোমার শারীরিক উপস্থিতি খুব মিস করি। অনেক সময় মানুষ খারাপ ব্যবহার করে বা ছোট করে দেখে, তখন খুব মনে হয়, তুমি যদি পাশে থাকতে। কিন্তু আমার ভিতরে তোমার উপস্থিতি আমাকে শক্ত করে। আমি পৃথিবীর সামনে দাঁড়াই তোমার শক্তি, তোমার আশীর্বাদ আর তোমার ভালোবাসা নিয়ে। তুমি আজও আমার রক্ষাকর্তা, আমার অভিভাবক।”

সমাজের রক্তচক্ষুকে বুড়ো আঙুল দেখাতে চান নন্দিনী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “খুব শিগগির আমি আবার বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করব, যেমনটা তুমি শুরু করেছিলে। সমাজ যাদের তাড়াতাড়ি ‘বিধবা’ বলে চিহ্নিত করে, সেই নারীরাই প্রথম দেবীবরণ, সিঁদুর খেলা আর সব শুভ কাজের অধিকার পাবে। স্বামীকে হারালেও কোনো নারীর বিবাহ, বিশ্বাস বা উৎসবে অংশ নেওয়ার অধিকার শেষ হয়ে যায় না। তোমার চলে যাওয়া আমাদের সম্পর্ক শেষ করেনি বরং আরও শক্ত করেছে। আমার পরিচয়, তোমার স্ত্রী হিসেবে, আজও অটুট। প্রণাম নিও, বাবি।”

তাপস পাল-নন্দিনী দম্পতির একমাত্র সন্তানের নাম সোহিনী পাল। বাবার পথ অনুসরণ করে কন্যাও অভিনয়ে পা রেখেছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে জন্মগ্রহণ করেন তাপস পাল। ১৯৮০ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘দাদার কীর্তি’ মুক্তি পায়। সব মিলিয়ে ৭২টি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। তার অভিনীত শেষ সিনেমা ‘খিলাড়ি’। এটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ahvz
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন