যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামল নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অস্কার মনোনীত তারকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অব লন্ডন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সম্ভবত আর আমেরিকায় থাকছেন না। তার মতে, ট্রাম্পের অধীনে আমেরিকার ‘বাস্তবতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে’।
সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট তার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের অধীনে বাস্তবতা পুরোপুরি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের উচিত তার কৌশল থেকেই শিক্ষা নেওয়া এবং আমরা যে বাস্তবতায় বাঁচতে চাই, তা নিজেরাই তৈরি করা।
যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় যে ট্রাম্পের এই শাসনামলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন কি না, স্টুয়ার্ট সরাসরি বলেন, সম্ভবত না। আমি সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না। তবে আমি পুরোপুরি হাল ছেড়ে দিতে চাই না। আমি ইউরোপে সিনেমা তৈরি করতে চাই এবং সেগুলো মার্কিন দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট একাই নন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অনেক তারকাই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন এলেন ডিজেনারেস এবং রোজি ও’ডোনেল-এর মতো ব্যক্তিত্বরা। এমনকি ‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’ খ্যাত পরিচালক জেমস ক্যামেরনও বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী হয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের প্রশংসা করে ক্যামেরন বলেন, আমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের সঙ্গে থাকার জন্য এখানে এসেছি। নিউজিল্যান্ড বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে, তারা ঐক্যবদ্ধ। অন্যদিকে আমেরিকা এখন চরমভাবে মেরুকরণ করা একটি দেশ, যারা বিজ্ঞানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
একই সুর শোনা গেছে রোজি ও’ডোনেলের কণ্ঠেও। ভ্যারাইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমার সন্তানকে নিয়ে সেখানে (যুক্তরাষ্ট্রে) ফিরে যাওয়া কি নিরাপদ হবে? এই প্রশাসন বিদায় না নেওয়া পর্যন্ত এবং তাদের অপরাধের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি ফিরছি না।
ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈরিতা অবশ্য নতুন নয়। ২০১২ সালে স্টুয়ার্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করেছিলেন ট্রাম্প। তখন রবার্ট প্যাটিনসনের সঙ্গে স্টুয়ার্টের বিচ্ছেদ নিয়ে ট্রাম্প লিখেছিলেন যে, প্যাটিনসনের উচিত স্টুয়ার্টকে ত্যাগ করা।
পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতি রোমন্থন করে স্টুয়ার্ট বলেছিলেন, তিনি কয়েক বছর আগে আমার ওপর বেশ ক্ষেপে ছিলেন, বলা যায় আমাকে নিয়ে আচ্ছন্ন ছিলেন, যা সত্যিই পাগলামি। আমি আজও বুঝতে পারি না একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কেন আমাকে নিয়ে এত মাথা ঘামাতেন।
