নাসিম রুমি: নানা উত্থান–পতনের মধ্য দিয়েই এগিয়ে গেছে চিত্রনায়ক শাকিল খান-এর দীর্ঘ অভিনয়জীবন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা ও দর্শকের রুচি, তবে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আর পরিশ্রম দিয়ে বারবার নিজের অবস্থান প্রমাণ করেছেন তিনি। জনপ্রিয়তা থাকলেও নিজেকে কখনোই ‘সুপার স্টার’ ভাবেননি—বরং সব সময়ই নিজেকে একজন অভিনেতা হিসেবেই দেখতে চেয়েছেন শাকিল খান।
সম্প্রতি এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সম্মাননা গ্রহণের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমি নিজেকে কখনোই সুপার স্টার ভাবিনি। একজন অভিনেতা হিসেবেই কাজ করতে চেয়েছি। এই জায়গায় আসতে আমাকে অনেক কষ্ট আর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
নতুন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাকিল খান জানান, চলচ্চিত্রই তাঁর মূল ভাবনার জায়গা। শাকিল খান বলেন, ‘নতুন বছরে অনেক নতুন ও ভিন্নধারার কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। আপাতত বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। সময় হলে সবই জানাবো।’
১৯৯৭ সালে প্রয়াত নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক হয় শাকিল খানের। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন অসংখ্য চলচ্চিত্রে এবং অর্জন করেছেন একাধিক সম্মাননা।
চিরসবুজ নায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ে শাকিল খানের উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে আলাদা করে নজর কাড়ে। অনেকেই তাঁর অভিনয় দেখে চলচ্চিত্রে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানা যায়।
প্রথম সিনেমা মুক্তির পর খুব দ্রুতই তিনি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। দেশীয় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজের অভিনয়দক্ষতার পরিচয় দেন শাকিল খান। ভারতীয় হিন্দি চলচ্চিত্র ‘হার হার মহাদেব’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রশংসা কুড়ান। বিজয় শুক্লা পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন অর্পিতা সেনগুপ্তা।
এছাড়াও ভারত–বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ‘মেঘলা আকাশ’, ‘রাজা রানী বাদশা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে একজন পরিণত অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র অঙ্গনের একটি প্রবণতা নিয়েও মন্তব্য করেন শাকিল খান। তাঁর ভাষায়, অনেকে দুই–একটি ছবিতে অভিনয় করেই নিজেকে সুপারস্টার দাবি করেন কিংবা নেগেটিভিটি দিয়ে ভাইরাল হতে চান। কিন্তু আমি কখনোই সেভাবে ভাবিনি। আমার কাছে কাজটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে নতুন বছরের দিকে তাকিয়ে আছেন শাকিল খান। তাঁর বিশ্বাস, জনপ্রিয়তার চেয়েও টিকে থাকার আসল শক্তি হলো পরিশ্রম ও ধারাবাহিক কাজ—আর সেই পথেই এগোতে চান তিনি।
