নাসিম রুমি: আরও একটি বছর কেটে গেল মান্নাবিহীন। দেশীয় চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেতা ও প্রযোজক সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার মান্নার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। দেড় যুগ আগে ২০০৮ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। মান্নার মৃত্যুর খবরে হতবিহ্বল হয়ে যান তার লাখো ভক্ত-অনুরাগী। তাকে একনজর দেখার জন্য অনেক জেলা থেকে ছুটে আসেন এফডিসিতে। শুধু তা-ই নয়, মান্নার মরদেহ নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স গাড়িটি দেখার জন্য ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে তার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায় থাকেন।
আজ এই তারকার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না ও মান্না ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রে মান্নার অভাব এখনো পূরণ হয়নি বলে চলচ্চিত্রবোদ্ধারাও অভিমত দেন। তাদের মতে, মান্না অভিনীত ছবিগুলোয় দর্শক যেভাবে হলমুখী হতেন, তা এখন নেই বললেই চলে। তার ছবির দর্শক-ভক্তরাই আলাদা। অনেক নায়ক এফডিসিতে আসবে যাবে, তবে মান্না চির অমøান-কিংবদন্তি হয়ে থেকে যাবেন আজীবন। পূরণ হচ্ছেনা মান্নার অভাব। মান্না যেধারায় অভিনয় করতেন সেই ধারায় এখনো বিকল্প নায়ক নেই।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মান্নার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা উপজেলার কালিহাতীতেও দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে মান্না ফাউন্ডেশন। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন চলচ্চিত্রের জাঁদরেল এই তারকা। ১৯৮৪ সালে বিএফডিসি আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমের মাধ্যমে মান্না চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। তার প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘তওবা’ (১৯৮৪)। ‘আম্মাজান’খ্যাত মান্না ২৪ বছরের কর্মজীবনে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে সিপাহী, যন্ত্রণা, অমর, পাগলী, দাঙ্গা, ত্রাস, জনতার বাদশা, লাল বাদশা, আম্মাজান, দেশ দরদী, অন্ধ আইন, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, অবুঝ শিশু, মায়ের মর্যাদা, মা-বাবার স্বপ্ন, হৃদয় থেকে পাওয়া ইত্যাদি।
‘ম্যানলি হিরো’খ্যাত এই নায়ক কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, প্রযোজক হিসেবে উপহার দিয়েছেন অনেক সুপারহিট সিনেমা। তিনি ‘কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র’ নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি লুটতরাজ, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, দুই বধূ এক স্বামী, আমি জেল থেকে বলছি, পিতা-মাতার আমানতসহ মোট আটটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন। এমনকি তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার স্মৃতির স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজন করে থাকে।
