English

24 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
- Advertisement -

পানি নয়, এই রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পর হাত ধোয়ানো হয় চকলেটে

- Advertisements -

খাবার খেতে গেলে আগে কী ভাবতেন? পেট ভরবে তো? খাবারটা সুস্বাদু তো? এখন আর প্রশ্নগুলো সেখানেই থেমে নেই। আজকাল ডাইনিং মানে শুধু খাওয়া নয়, বরং একটা ছোট্ট অ্যাডভেঞ্চার! কোথাও অচেনা মানুষের বাড়িতে বসে ডিনার, কোথাও আঁকতে আঁকতে খাওয়া, আবার কোথাও এমন খাবারের কোর্স যেখানে আপনাকে নিজের হাতই চেটে পরিষ্কার করতে হবে! অবাক লাগছে? তাহলে চলুন পুরো গল্পটা জেনে নেওয়া যাক-

গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে খাবার সংস্কৃতি আমূল বদলে গেছে। এখন মানুষ শুধু সুস্বাদু খাবার খুঁজছে না, খুঁজছে এমন অভিজ্ঞতা যেটা মনে থাকবে অনেক দিন। তাই নানা দেশে গড়ে উঠছে অভিনব সব রেস্তোরাঁ। যেমন রেস্টুরেন্ট অব মিসটেকেন অর্ডারস, যেখানে অর্ডার নেন ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত বয়স্ক কর্মীরা। এখানে সব কর্মীই ডিমেনশিয়া আক্রান্ত। যেখানে মোমো চাইলে পেয়ে যেতে পারেন পিৎজা! আবার কফি চেয়ে হয়তো পেলেন চাউমিন!

এই তালিকার অন্যতম আলোচিত নাম এলিসিইলো। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ও ওয়াশিংটন ডিসি শহরে অবস্থিত এই মিশেলিন-তারকাপ্রাপ্ত রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া মানেই যেন এক নাটকীয় যাত্রা। এখানে জনপ্রতি টেস্টিং মেনুর দাম প্রায় ২৮৯ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজারের কাছাকাছি)। দাম শুনে চোখ কপালে উঠতেই পারে কিন্তু যারা গেছেন, তারা বলছেন অভিজ্ঞতাটা নাকি টাকার চেয়েও বেশি মূল্যবান।

এই রেস্তোরাঁর সবচেয়ে আলোচিত কোর্সটির নাম ‘চোকোথেরাপি’। রেস্তোরাঁর ওয়াশিংটন শাখায় যোগ হয়েছে নতুন মেনু। অতিথিদের হাত ধুইয়ে দেওয়া হয় উষ্ণ চকলেটে। এটি তৈরি করেছেন খ্যাতনামা শেফ জুয়ান মানুয়াল বাড়িয়েনটোস। এখানে পরিবেশন করা হয় উষ্ণ গরম তরল চকলেট কিন্তু প্লেটে নয়, সরাসরি আপনার হাতে! প্রথমে আপনাকে একটি তোয়ালে দেওয়া হবে, তারপর হাতে ঢালা হবে উষ্ণ চকলেট। এরপর সেটি হাতে মাখতে হবে, আর শেষে? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন নিজের হাত থেকেই চেটে খেতে হবে চকলেটটি। তারপর আবার পানি ঢেলে পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। পুরো ব্যাপারটা যেন শৈশবের দুষ্টুমি আর বিলাসী ডাইনিংয়ের এক অদ্ভুত মিশেল।

শেফের ধারণা, খাবার শুধু জিভে নয় ইন্দ্রিয়ের সব দরজা খুলে অনুভব করা উচিত। চকলেটের গন্ধ, উষ্ণতার স্পর্শ, মিষ্টি স্বাদ সব মিলিয়ে এই অভিজ্ঞতা নাকি মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ছোটবেলার স্মৃতিতে। তাই এখানে খাওয়া মানে শুধু খাবার চেখে দেখা নয়, বরং অনুভূতি, স্মৃতি আর আনন্দের এক সম্মিলিত মুহূর্ত।

রেস্তোরাঁটির পুরো মেনুই নাটকীয় উপস্থাপনায় ভরপুর। যেমন আছে ট্রাফল বুনুয়েলো কালো ট্রাফল ও মাশরুমের স্বাদের এক অভিনব পদ আছে যার নাম ‘বাইসন এ১ ট্রাপো’। বিশেষভাবে রান্না করা বাইসনের মাংস; আর আছে বিখ্যাত ‘ট্রি অব লাইফ’ যেখানে ইউকা ব্রেড পরিবেশন করা হয় ছোট্ট বনসাই গাছের মতো ভাস্কর্যে সাজিয়ে। চোকোথেরাপি কোর্সটি পরিবেশন করা হয় এই ‘ট্রি অব লাইফ’-এর আগে, যেন মূল নাটকের আগে এক মজার ট্রেলার।

এই অভিজ্ঞতার পেছনে আছে কলম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী রান্নার প্রতি শ্রদ্ধা। রেস্তোরাঁটি মূলত কলম্বিয়ান খাবারের আধুনিক রূপ তুলে ধরে, যেখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটে প্লেটের ওপরেই।

আজকের দিনে মানুষ শুধু ভালো খাবার নয় চায় গল্প, স্মৃতি আর বলার মতো মুহূর্ত। তাই ডাইনিং এখন অনেকটাই থিয়েটারের মতো প্রতিটি কোর্স একেকটা দৃশ্য, প্রতিটি স্বাদ একেকটা আবেগ। একা খাওয়া হোক, ডেট নাইট হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা সব ক্ষেত্রেই মানুষ খুঁজছে এমন অভিজ্ঞতা, যা শেষ কামড়ের পরও মনে থেকে যায়।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/mqcn
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন