ব্রাজিলের নতুন করে গড়া জাতীয় দলে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে হতাশার পর মাত্র ১৮ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। তখন বিশ্ব ফুটবলে ২৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি ইতিমধ্যেই সুপারস্টার, আর ব্রাজিলও তাদের ‘নিজস্ব মেসি’ খুঁজছিল।
সেই সময় থেকেই নেইমারের ওপর তৈরি হয় অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ। তাকে ঘিরে গড়ে ওঠে এমন এক সংস্কৃতি, যেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে প্রতীকী দায়িত্ব—ব্রাজিলের ‘মেসি-সম’ তারকা হয়ে ওঠা।
২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে হারের পর হতাশা আরও গভীর হয়। ম্যাচ শেষে নেইমারকে দেখা যায় দলীয় বাসের পাশে একা দাঁড়িয়ে, মাথা নিচু করে। তখন তার বয়স মাত্র ২৬ হলেও মনে হয়েছিল বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগ হয়তো হারিয়ে গেছে।
সমালোচকদের মতে, ব্রাজিল দলে তাকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজানোর কারণে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তার উপস্থিতি যেমন প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে, তেমনি ব্রাজিলের মধ্যমাঠেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
২০১১ সালের কোপা আমেরিকা থেকেই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে শারীরিক খেলা ও কঠোর ট্যাকল। প্রতিপক্ষরা তাকে থামাতে বারবার ফাউল করতে থাকে, আর এর প্রতিক্রিয়ায় নেইমারও অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন। এই দ্বন্দ্ব পুরো দশকজুড়ে চলতে থাকে।
২০১৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ভয়াবহ পিঠের আঘাতে তার মেরুদণ্ডে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালে নেইমার না থাকায় ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে দলটি।
পরবর্তীতে ক্লাব ক্যারিয়ারেও তিনি একই ধরনের চাপ ও প্রত্যাশার মধ্যে থাকেন। বার্সেলোনা ছাড়ার পর পিএসজির হয়ে খেললেও তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রত্যাশা পূর্ণতা পায়নি।
বর্তমানে বয়স ৩৪ হলেও ধারাবাহিক ইনজুরি ও কম ম্যাচ খেলার কারণে তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি খুব কম ম্যাচ খেলেছেন এবং অনেক সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন।
এ পরিস্থিতিতে ব্রাজিল দলে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে রেখেছেন মূলত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার ওপর ভর করে—যা অনেকের মতে কৌশলের চেয়ে আশা নির্ভর সিদ্ধান্ত।
সমালোচকদের মতে, নেইমার এখনো ব্রাজিলের জন্য এক ধরনের ‘আশার প্রতীক’, যেমনটি অতীতে মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে। তবে বাস্তবতা বলছে, এই বিশ্বকাপই হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
