২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরু হতে আরও তিন মাসের বেশি সময় বাকি রয়েছে। আসরকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড় বাছাইসহ নানা প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে দলগুলো।
প্রত্যেক ফুটবলারই বিশ্বকাপে নিজ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। বিশ্বসেরার মঞ্চে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে অনেকে কঠোর পরিশ্রম করেন যান। সবরকমের প্রস্তুতি সেরে বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে থাকেন কম-বেশি সব ফুটবলারই। তবে চোট নামক অদৃশ্য শত্রু প্রায়ই বাধা হয়ে দাড়ায় এই স্বপ্নে। কখনো কখনো কিছু তারকাদের বিশ্বকাপও খানিকটা তার রঙ হারায়।
এরমধ্যেই চোটের কারণে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই শেষ অনেক তারকা ফুটবলারের। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকতে হবে তাদের।
চোটের অভিশাপে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া খেলোয়াড়দের সবশেষ সংযোজন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রদ্রিগো গোস। এই ‘অভাগাদের’ তালিকায় আরও আছেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথ, স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো, ইংল্যান্ডের উইঙ্গার জ্যাক গ্রিলিশ ও জার্মানির গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান।
এমনকি ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমারের ইনজুরি নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে রিয়াল মাদ্রিদ নিশ্চিত করেছে ডান হাঁটুতে অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়া এবং বাইরের মেনিস্কাসে মহাযজ্ঞে অংশ নিতে পারবেন না রদ্রিগো। গুরুতর এই চোটের কারণে চলতি মৌসুমের বাকি অংশে আর খেলতে পারবেন না এই উইঙ্গার। ফলে শুধু ক্লাবের ম্যাচই নয়, ব্রাজিলের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যে আশা ছিল, সেটিও আপাতত শেষ হয়ে গেল তার। বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে তাকে ছাড়াই কৌশল সাজাতে হবে সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে।
চোটের ধাক্কা লেগেছে ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা দলেও। ভিয়ারিয়ালে খেলা আলবিসেলেস্তা ডিফেন্ডার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দলের সঙ্গী হতে পারবেন না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাঁ পায়ের অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন তিনি। এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে কমপক্ষে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এর আগেও ফয়েথ দীর্ঘমেয়াদি হাঁটু ও কাঁধের চোটে ভুগেছেন ফয়েথ।
একই মাসে বাজে চোটে পড়েন এভার্টনের ইংলিশ ফুটবলার জ্যাক গ্রিলিশ। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ধারে এভার্টনে যোগ দিয়ে এ মৌসুমে দারুণ ছন্দেই ছিলেন গ্রিলিশ। তবে হঠাৎ চোট পুরো বাম মৌসুম থেকেই ছিটকে পড়েন ৩০ বছর বয়সী উইঙ্গার। পায়ে স্ট্রেস ফ্র্যাকচার ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ফলে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
স্পেন দলও একই ধরনের চোটের কবলে পড়েছে। ‘লা রোজাদের’ মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা মিকেল মেরিনো বর্তমানে ডান পায়ের হাড়ে ফাটল ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচার শেষে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তিনি আদৌ বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এখনও পায়ে পুরো ভর দিতে পারছেন না আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিট হয়ে দলে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জার্মানির ক্ষেত্রেও রয়েছে দুশ্চিন্তা। মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান–কে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বার্সেলেনায় হান্সি ফ্লি যখন মূল গোলকিপার হিসেবে হোয়ান গার্সিয়াকে বেছে নেন, তখন নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পেতে ধারে লা লিগার ক্লাব জিরোনাতে পাড়ি জমান এই জার্মান গোলকিপার। কিন্তু নতুন ক্লাবে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার পরই তার বাম পায়ে মারাত্মকভাবে চোট পান। তাতে মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে শেষ হয় তাঁর বিশ্বকাপ খেলার আশাও।
এদিকে জাপান জাতীয় দলও বিশ্বকাপের আগে বড় দুঃসংবাদ শুনেছে। এশিয়ার দলটির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার তাকুমি মিনামিনো গত বছরের ডিসেম্বরে মোনাকোর হয়ে মাঠে নেমে বাঁ হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যায়, যার কারণে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়েও এখন তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
