১৩ বছর পর প্রতারণার মামলা থেকে মুক্তি মিললো নেইমার-বার্সার

- Advertisements -

স্পেনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত স্বস্তি এনে দিলেন নেইমার ও এফসি বার্সেলোনাকে। ২০১৩ সালে ব্রাজিলিয়ান তারকার সান্তোস থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া নিয়ে যে জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, সেই মামলায় নিম্ন আদালতের খালাসের রায় বহাল রেখেছে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট।

বুধবার দেওয়া রায়ে আদালতের ক্রিমিনাল চেম্বার জানায়, ২০২২ সালে বার্সেলোনা প্রাদেশিক আদালত যে খালাসের রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে করা আপিল তারা খারিজ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলায় অভিযোগপক্ষ যে তথ্য-প্রমাণ হাজির করেছিল, তা ‘অসংগত’ এবং অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়।

রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘এ ব্যবসায়িক লেনদেনে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা প্রতারণা ছিল না, না খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে, না তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে, না বার্সেলোনা ক্লাবের পক্ষ থেকে।’ ফলে দীর্ঘদিনের এই বিতর্কিত মামলার আইনি লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন নেইমার ও সংশ্লিষ্টরা।

Advertisements

এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ব্রাজিলের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডিআইএস এস্পোর্তের অভিযোগ থেকে। তারা দাবি করেছিল, নেইমারের ট্রান্সফারের প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়েছিল, যার ফলে তারা তাদের প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ওই সময় সান্তোসে থাকা অবস্থায় নেইমারের ৪০ শতাংশ অর্থনৈতিক অধিকার ছিল ডিআইএস-এর হাতে।

আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজ-পত্রে নেইমারের ট্রান্সফার ফি দেখানো হয়েছিল ১৭.১ মিলিয়ন ইউরো, যার ৪০ শতাংশ হিসেবে ডিআইএস পেয়েছিল ৬.৮ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু তাদের দাবি ছিল, প্রকৃত ট্রান্সফার মূল্য এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং সে অনুযায়ী তারা আরও বড় অঙ্ক পাওয়ার কথা ছিল।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা নেইমারের বিরুদ্ধে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানার দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে তৎকালীন বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট সান্দ্রো রোজেল ও হোসে মারিয়া বার্তেম্যুর বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়।

Advertisements

তবে আদালত শেষ পর্যন্ত সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে এবং বলেছে, পুরো বিষয়টিতে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি। এর মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান ঘটল।

এই রায়ের ফলে নেইমার এবং বার্সেলোনার জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে। বহুদিন ধরে চলা এই মামলাটি শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, ফুটবল অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এখন সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে সেই বিতর্কের অবসান হলো।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/xmwq
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন