সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বার পিচিচি ট্রফি জিতলেও সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না কিলিয়ান এমবাপের। টানা দ্বিতীয়বার পিএসজিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিততেও দেখলেন তিনি ক্লাব ছাড়ার পর। রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটি টানা দ্বিতীয় মৌসুম কাটালো শিরোপাহীন।
ক্লাব ক্যারিয়ারে সময়টা সুখকর না হলেও জাতীয় দলের জার্সিতে সামনে রয়েছে দারুণ কিছু করার সুযোগ। দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এমবাপে ও ফ্রান্সে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে পৌঁছাতে চায়। দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিততে না এমবাপে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে যা কিনা তার জন্য হতে যাচ্ছে বিরাট অর্জন। এমনটা করতে হলে এমবাপেকে লড়াই করতে হবে দুই কিংবদন্তী লিওনেল ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিপক্ষে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি এমবাপের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মেসি ও রোনালদোর মধ্যে কাকে তিনি বেশি পছন্দ করেন। উত্তর দিতে গিয়ে কিছুটা কৌশলি ছিলেন এই ফরাসি তারকা। তিনি শুধুমাত্র একজনকে বেছে নিতে রাজি হননি। তার মতে, দুজন দুরকমের ফুটবলার। এ সময় তিনি মেসি ও রোনালদোকে ঘিরে প্রচলিত একটি ধারণারও সমালোচনা করেন যে, মেসি শুধুই প্রতিভার জোরে খেলেন আর রোনালদো শুধুই কঠোর পরিশ্রমের ফল।
এমবাপে বলেন, ‘আমি কাউকে ছোট করতে চাই না, কিন্তু এ ধরনের কথা সাধারণত তারাই বলে, যারা কখনও ফুটবল খেলেনি। যদি কেউ বলে রোনালদোর প্রতিভা নেই বা মেসি পরিশ্রম করেননি, তাহলে বুঝতে হবে সে কখনও নিয়মিত অনুশীলন করেনি। প্রতিদিন বুট পরে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা থাকলে কেউ এমন কথা বলতে পারে না। আমি মন থেকে এটা বলছি।’
মেসি-রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। এমবাপের মতে, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতটা স্মরণীয় হওয়ার কারণ হলো তারা প্রায় সবদিক থেকেই একে অপরের বিপরীত। তার ভাষায়, ‘একজন ডান পায়ের খেলোয়াড়, অন্যজন বাঁ পায়ের। একজন লম্বা, অন্যজন খাটো। একজন বেশি শক্তিশালী, অন্যজন বেশি ক্ষিপ্র। একজনের ফিনিশিং অসাধারণ, অন্যজনের খেলার দৃষ্টিভঙ্গি অসাধারণ।’
আসন্ন বিশ্বকাপে এই তিন মহাতারকাকেই দেখা যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পারবে মাত্র একটি দল। সেটি মেসি, রোনালদো বা এমবাপের দেশ হতে পারে, আবার অন্য কোনো দেশও হতে পারে।
