English

24 C
Dhaka
সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
- Advertisement -

গোড়ালি-ব্যথায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা যে কারণে প্রয়োজন

- Advertisements -
ডা. এম. ইয়াছিন আলী: রহিমা খাতুন (বয়স ৩৮ বছর)। ইদানীং একটি সমস্যায় ভুগছেন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা রাখামাত্রই পায়ের তালুতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। আবার দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালেও একই ধরনের ব্যথা হয়। তবে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে। বসা অবস্থা থেকে উঠতে গেলে প্রথমে পা মুড়িয়ে ধীরে ধীরে দাঁড়াতে হয়, তখনও ব্যথা অনুভূত হয়। প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার মাত্রা এতই বেড়ে যায়, শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, এ ধরনের গোড়ালির ব্যথা সাধারণত দুটি কারণে হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো- প্লান্টার ফ্যাসাইটিস।
আমাদের শরীরে হাড় ও মাংসপেশির মাঝখানে এক ধরনের পর্দা থাকে। পায়ের তালুর এই ফ্যাসিয়ায় প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটি সাধারণত পায়ের তালুর লিগামেন্টে বারবার আঘাত লাগার কারণে হয়ে থাকে। যারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করেন বা বেশি হাঁটাহাঁটি করেন, যাদের ওজন বেশি, যাদের পায়ের পাতা ফ্ল্যাট বা স্বাভাবিক আর্চ নেই, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়াও রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস, অ্যানকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিসের মতো কিছু রোগের কারণেও প্লান্টার ফ্যাসাইটিস হতে পারে।

দ্বিতীয় কারণটি হলো- ক্যালকেনিয়াল স্পার। পায়ের গোড়ালির প্রধান হাড়ের নাম ক্যালকেনিয়াস। এই হাড়ের নিচের দিকে ক্যালসিয়াম জমে ছোট হুকের মতো অতিরিক্ত একটি হাড় বেড়ে যেতে পারে। এই বাড়তি হাড় আশপাশের মাংসপেশি ও লিগামেন্টে বারবার চাপ ও আঘাত করে। ফলে প্রদাহ ও ব্যথা দেখা দেয়। এ রোগ নির্ণয়ে পায়ের গোড়ালির এক্স-রে করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রহিমা খাতুন এক্স-রে করান এবং রিপোর্টে দেখা যায়, তার গোড়ালির হাড়ের নিচে হুকের মতো ক্যালকেনিয়াল স্পার তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় চিকিৎসক ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেন। এই রোগে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, যেমন- স্ট্রেচিং, ডিপ ট্রান্সভার্স ফ্রিকশন ম্যাসাজ (উঞঋগ), থেরাপিউটিক আল্ট্রাসাউন্ড এবং ইনট্রিনসিক ফুট মাসল এক্সারসাইজে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তবে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে নিতে হবে। কারণ ভুল বা অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসায় রোগীর ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সবসময় নরম ও আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করতে হবে এবং হাঁটার সময় হিল কুশন বা সফট সোল ব্যবহার করা উচিত।

শক্ত মেঝেতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বেশি হাঁটাচলা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভারী কোনো জিনিস, যেমন- বেশি ওজনের বাজারের ব্যাগ বা পানিভর্তি বালতি বহন করা যাবে না। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাত দিয়ে সাপোর্ট নিয়ে ধীরে ধীরে উঠতে ও নামতে হবে এবং গোড়ালির ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এড়াতে হবে। ব্যথা থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের ব্যায়াম করা যাবে না। হাই হিল জুতা পরা সম্পূর্ণ নিষেধ। যাদের ওজন বেশি, তাদের অবশ্যই ওজন কমাতে হবে এবং নিয়মিত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

লেখক: বাতব্যথা ও প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/wlqf
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন