অনেকেরই কারণে-অকারণে চোখে হাত দেওয়া, ডলা বা ঘষার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু হাতে জীবাণু থাকতে পারে, যা চোখের জন্য ক্ষতিকর। তাই অপ্রয়োজনে চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে পরিষ্কার রুমাল ব্যবহার করুন। রোদে বের হলে অবশ্যই সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (টঠ) রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে এবং আরাম দেয়। বিশেষ করে গরমকালে সানগ্লাসের পাশাপাশি ছাতা ব্যবহার করাও উপকারী।
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে কাজ করলে চোখে চাপ পড়ে এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কম্পিউটার স্ক্রিন আই লেভেলের সামান্য নিচে রাখার চেষ্টা করুন, যাতে নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করতে হয়। এতে চোখের পাতা কর্নিয়ার বড় অংশ ঢেকে রাখেএ ফলে চোখ কম শুষ্ক হয়। কাজের সময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কম রাখুন এবং একটানা কাজ না করে মাঝে মাঝে বিরতি নিন। চোখে হঠাৎ কোনো কিছু ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তবু যদি কিছু থেকে যায় বা অস্বস্তি বজায় থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে শিশুদের মধ্যে রাতকানা রোগ দেখা দিতে পারে। এ থেকে রক্ষা পেতে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট, তেল বা ইনজেকশন দেওয়া হয়। জন্মগত রেটিনার সমস্যার কারণেও রাতকানা হতে পারে। চোখের জন্য আলাদা কোনো ডায়েট না থাকলেও সুষম খাদ্যাভ্যাস চোখের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন, যা চোখের রেটিনা ও কর্নিয়া সুস্থ রাখতে সহায়ক।
অনেকে চশমার পরিবর্তে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, এমনকি স্টাইলের জন্য রঙিন লেন্সও পরেন। লেন্স ব্যবহারের আগে অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে এবং লেন্স পরিষ্কার রাখতে হবে। দীর্ঘক্ষণ একটানা লেন্স পরা উচিত নয় এবং লেন্স পরে কখনই ঘুমানো যাবে না। নির্দিষ্ট সময় পর লেন্স পরিবর্তন করাও জরুরি। চোখের মেকআপ বিভিন্ন ধরনের হতে পারেÑ স্মোকি আইজ, ন্যুড মেকআপ, কালারড আইজ, মেটালিক আইজ ইত্যাদি। তবে যেকোনো মেকআপ করার পর ঘুমানোর আগে তা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা আবশ্যক। এমনকি শুধু কাজল ব্যবহার করলেও তা মুছে ফেলতে হবে।
চোখকে সতেজ রাখতে একটি বাটিতে গোলাপজল নিয়ে ফ্রিজে রাখুন। দিনে দুবার ঠাণ্ডা গোলাপজলে ভেজানো তুলো দিয়ে চোখের চারপাশ মুছে নিলে আরাম পাওয়া যায়। চোখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই এর সঠিক যত্ন নিন।
লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং অধ্যাপক ও ভাইস প্রিন্সিপাল
মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিট, মিরপুর, ঢাকা
চেম্বার : কনসালট্যান্ট, আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার
রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা।
