কর বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতার মাধ্যমে তামাকপণ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তরুণ প্রজন্মর সুরক্ষায় তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে সিগারেটসহ তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, তামাকপণ্যে কর বাড়ালে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি সম্ভব হবে এবং বিশেষ করে তরুণদের ধূমপান থেকে দূরে রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা যেতে পারে। “জনস্বাস্থ্য বনাম রাজস্ব—এই বিতর্কের একটি কার্যকর সমাধান এখানে রয়েছে,” উল্লেখ করেন তিনি।
তবে কেবল কর বাড়ানোই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, তামাক নিয়ন্ত্রণে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালে আইন পাসের সময় তা বাদ দেওয়া হয়েছে, যার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তামাক কর প্রস্তাব তুলে ধরেন শাফিউন নাহিন শিমুল, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট-এর অধ্যাপক। প্রস্তাবে ১০ শলাকার সিগারেট প্যাকেটের দাম ৬০ ও ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ১৪০ টাকার প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং ১২৫ টাকার প্যাকেট ২০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবেন। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ও সমসংখ্যক তরুণের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া তামাক ব্যবহার কমবে এবং প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি কর রাজস্ব অর্জন করা যেতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সায়েদ মো. আকরাম হুসাইন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালে মারা যান এবং অধিকাংশ ক্যানসারের পেছনে তামাক ব্যবহার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
