পুরুষের পেটের মেদ অজান্তেই বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস-হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

- Advertisements -

পুরুষের পেটে জমা চর্বি এক সতর্কবার্তা। তবে ভয় না পেয়ে সচেতন হলেই পরিবর্তন সম্ভব। খাওয়া-দাওয়ায় সচেতনতা, একটু বেশি হাঁটা, একটু ভালো ঘুম— এই ছোট্ট অভ্যাসই আপনাকে ধীরে ধীরে সুস্থ ও ফিট রাখবে।

আপনি আয়নায় দাঁড়িয়ে হয়তো ভাবছেন— এই সামান্য ভুঁড়ি তো স্বাভাবিক। বয়স বাড়ছে, কাজের চাপ বাড়ছে— এগুলোই ভুঁড়ি বাড়ার সহজ ব্যাখ্যা বা সান্ত্বনা পুরস্কার। কিন্তু সত্যিটা একটু অস্বস্তিকর। পুরুষের এই পেটের মেদ বা ভুঁড়ি শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, এটি শরীরের ভেতর লুকিয়ে থাকা বড় বিপদের ইঙ্গিত। সময় থাকতে সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে গুরুতর অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সব মেদ একরকম নয়। পেটে যে ভিসেরাল ফ্যাট জমে, সেটিই আসল সমস্যা। এটি লিভার, অন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর চারপাশে জমে আপনার শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। আর এতে আপনার শরীরে প্রদাহ তৈরি করে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং বিপাকক্রিয়াকে ব্যাহত করে থাকে। আর তাতে ভিসেরাল ফ্যাট শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে, রক্তনালির ক্ষতি করে এবং কোলেস্টেরল বাড়ায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ঠেলে দেয় ডায়াবেটিসের দিকে। এই মেদ ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

ফলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ। আর সে কারণে অতিরিক্ত পেটের মেদ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে অলসতা, পেশিশক্তি কমে যাওয়া— এমনকি মানসিক পরিবর্তনও দেখা দেয়। এ ছাড়া ভিসেরাল ফ্যাটের সঙ্গে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এ সমস্যা  বাড়তে থাকে। সে কারণে পুরুষের পেটেই বেশি মেদ জমে।

বয়সের সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে।  দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং মানসিক চাপও এর অন্যতম কারণ। আর অ্যালকোহল ও প্রসেসড খাবারে আসক্তির ফলে ধীরে ধীরে কোমরের মাপ বাড়তে থাকে অথচ অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না।

এ পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব, তা হয়তো ভেবে পাচ্ছেন না। একদম সিক্স-প্যাক হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু আপনি চাইলে পেটের মেদ কমাতেই পারেন। এতে কোমরের মাপ কিছুটা কমবে, শরীরের মেটাবলিজম ভালো হবে এবং বাড়বে এনার্জি। শুধু দরকার নিয়ম আর সঠিক পরিকল্পনা।

দিনের শুরু প্রোটিন দিয়ে করুন। ডিম, ডাল, স্প্রাউটস বা পনির হতে পারে ভালো বিকল্প।

তবে রাতে ভারি খাবার এড়িয়ে চলুন। পরিমিত পরিমাণ পানি পান করুন। কারণ রাতে ভারি খাবার আপনার মেদ বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ।

এ ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে আপনার শরীরের ফ্যাট জমার প্রবণতা বেড়ে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে— নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করা। ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা। কম ঘুম এবং বেশি স্ট্রেস— এই দুই পেটের মেদ বৃদ্ধির বড় কারণ। তবে শুধু পেটের ব্যায়াম করে মেদ কমানোর চেষ্টা, না খেয়ে থাকা কিংবা খাবার স্কিপ করা, দ্রুত ফলের আশায় সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করে পেটের মেদ কমানো, কয়েক দিন চেষ্টা করে ছেড়ে দিলে তা সম্ভব নয়। এ জন্য নিয়মিত অধ্যবসায় কার্যকর করতে হবে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/js38
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন