ডা. নূরুল হুদা নাঈম: মাথা, মুখগহ্বর থেকে শুরু করে গলার নিচ তথা বুকের শুরু পর্যন্ত কোনো ক্যান্সার হলে তাকে হেড-নেক ক্যান্সার বলা হয়। মুখের ভেতরে ক্ষত, ঘা বা টিউমারের কারণে স্বাভাবিক খাবার গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হওয়া অথবা খাওয়ার সময় ব্যথা হওয়া ক্যান্সার শুরুর লক্ষণ হতে পারে।
ক্যান্সারের প্রধান কারণগুলো
তামাক ও মদ্যপান এই ক্যান্সারের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পান-সুপারি, জর্দা এবং অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার মুখগহ্বরের ক্যান্সারের জন্য অনেকাংশেই দায়ী। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গলার ক্যান্সারের প্রায় ৭৫ শতাংশই তামাকজাত দ্রব্যের কারণে হয়। এ ছাড়া হিউম্যান প্যাপিলমা ভাইরাস (HPV), প্যাকেটজাত ও লবণাক্ত খাবার এবং শিল্পকারখানায় রং বা কাঠের কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের এই ঝুঁকি বেশি থাকে।
উপসর্গগুলো
গলায় কোনো টিউমার বা শক্ত পিণ্ড অনুভূত হওয়া, গলার ভেতর বা বাইরে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত যা শুকাচ্ছে না অথবা খাওয়ার সময় তীব্র কষ্ট হওয়া। তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী স্বরভঙ্গ বা নাক-কান দিয়ে রক্ত আসাও ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
প্রতিরোধ ও প্রতিকার
তামাক ও মদ্যপান সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। খাদ্যতালিকায় টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। সার্জারি, রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির মাধ্যমে এখন এই রোগের চিকিৎসার সাফল্য অনেক বাড়ছে।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
