English

20 C
Dhaka
শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
- Advertisement -

শিশুর টনসিলাইটিস কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

- Advertisements -
ডা. শামীমা ইয়াসমীন: টনসিল হলো মুখগহ্বরের ভেতরে গলার চারপাশে অবস্থিত বিশেষ ধরনের লিম্ফয়েড গ্রন্থি, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টনসিল মূলত চারটি গ্রুপে বিভক্ত- জিহ্বার পেছনে থাকা লিংগুয়াল টনসিল, গলার দুপাশে অবস্থিত প্যালাটাইন টনসিল, নাসারন্ধ্রের পেছনে থাকা অ্যাডেনয়েড টনসিল ও এর কাছাকাছি উভয় পাশে থাকা টিউবাল টনসিল।
এগুলোর প্রধান কাজ হলো- মুখ ও নাক দিয়ে প্রবেশ করা জীবাণু শনাক্ত করে শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া। তবে এগুলো যখন সংক্রমিত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে প্যালাটাইন টনসিল আক্রান্ত হলে তাকে টনসিলাইটিস বলা হয়ে থাকে। এ রোগ সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুর মধ্যে বেশি দেখা যায়। স্কুলগামী শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা, খেলাধুলা এবং একই জিনিস ব্যবহারের ফলে সহজেই সংক্রমিত হয়। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এর প্রধান কারণ। পাশাপাশি মৌসুমী সর্দি-কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ এবং অ্যালার্জিজনিত সমস্যা টনসিলাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

এ রোগে আক্রান্ত হলে শিশুরা গলাব্যথা অনুভব করে এবং খাবার গিলতে তাদের কষ্ট হয়। টনসিল ফুলে বড় হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় এর ওপর সাদা আবরণ বা পুঁজ দেখা যায়। জ্বর, কখনও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, মাথাব্যথা, খাবারে অরুচি, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন এবং ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া এ রোগের সাধারণ উপসর্গ। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লালা বের হতে পারে এবং টনসিল খুব বড় হলে শ্বাস নিতে অসুবিধা দেখা দেয়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ টনসিলাইটিসই সঠিক যত্ন ও ওষুধে ভালো হয়। গলাব্যথা উপশমে উষ্ণ পানীয়, যেমন- গরম দুধ, গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করা কিংবা স্যুপ জাতীয় খাবার উপকারী। লবণমিশ্রিত কুসুম গরম পানি দিয়ে গার্গল করা এবং স্টিম ইনহেলেশন শ্বাসনালির আরাম দেয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যথা ও জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় এন্টিহিস্টামিন ওষুধ সহায়ক হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে না। তবে বছরে ৬-৭ বারের বেশি টনসিলাইটিস হলে বা টানা দুবছর ধরে বছরে তিনবারের বেশি আক্রান্ত হলে অপারেশন বিবেচনা করা হয়। এছাড়া টনসিলাইটিসের সঙ্গে অ্যাডেনয়েড অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে, টনসিলের পেছনে পুঁজ জমে পেরিটনসিলার অ্যাবসেস তৈরি হলে কিংবা টনসিল এত বড় হয়ে যায় যে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় (যাকে মেগাটনসিল বা ‘কিসিং টনসিল’ বলা হয়), তখন অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা নিতে দেরি করলে টনসিলাইটিস থেকে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে সাইনোসাইটিস, ফ্যারিনজাইটিস, ল্যারিঞ্জাইটিস ও রাইনাইটিস উল্লেখযোগ্য। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে রিউমেটিক ফিভার (বাতজ্বর) বা কিডনির রোগ একিউট গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস হতে পারে। টনসিলাইটিস প্রতিরোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। নিয়মিত ও সঠিকভাবে হাত ধোয়া, বিশেষ করে খাবারের আগে, বন্ধুদের সঙ্গে খাবার, চামচ বা পানির বোতল শেয়ার না করা, সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলে না যাওয়া এবং অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখা সংক্রমণ বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই অভিভাবকের উচিত, শিশুর পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা, উপসর্গের প্রতি সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, শিশুরোগ বিভাগ

চেম্বার : আলোক মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/lj64
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন