অণ্ডকোষে হঠাৎ ব্যথার অন্যতম কারণ হলো- একিউট এপিডিডাইমো-অর্কাইটিস, যা সাধারণত যেসব শিশু কম পানি পান করে বা যাদের বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়, তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। প্রস্রাবের সংক্রমণ থেকে জীবাণু অণ্ডকোষ ও এর নালিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অণ্ডকোষ ফুলে যায়, লাল হয় এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। যথাযথ চিকিৎসা না হলে অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মাম্পস-পরবর্তী অর্কাইটিসও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মাম্পস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যাতে গালের দুই পাশের প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ পরে অণ্ডকোষে ছড়িয়ে অর্কাইটিস তৈরি করে। এমন ইতিহাস থাকলে এবং অণ্ডকোষ ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কারণ এতে অণ্ডকোষের ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্টেরয়েডসহ অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হয় ক্ষতি কমানোর জন্য।
টেস্টিকুলার টর্শন বা অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়া একটি জরুরি অবস্থা। এতে আগে হালকা আঘাতের ইতিহাস থাকতে পারে। তবে সবসময় নাও থাকতে পারে। অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে গেলে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না করলে অণ্ডকোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দুঃখজনকভাবে অনেক সময় এটি গুরুত্ব পায় না এবং রোগী দেরিতে চিকিৎসকের কাছে আসে। ফলে অপারেশন করেও অণ্ডকোষ বাঁচানো সম্ভব হয় না। এই ধরনের ব্যথা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে কমে না। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তাই এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশু সার্জন, জেনারেল সার্জন বা ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।
আঘাতজনিত কারণেও অণ্ডকোষে ব্যথা হতে পারে। ক্রিকেট, ফুটবল বা অন্যান্য আউটডোর খেলাধুলার সময় এ ধরনের আঘাত লাগতে পারে। এমন হলে প্রথমে বিশ্রাম, বেশি পানি পান এবং প্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। উপসর্গ কমে গেলেও পরবর্তী সময় একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো, কারণ ভবিষ্যতে টর্শন বা টিউমারের ঝুঁকি থাকতে পারে। এজন্য নিয়মিত ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।
অণ্ডকোষে টিউমারও ব্যথার কারণ হতে পারে। টিউমার নরম হলে তা হাইড্রোসিল বা হার্নিয়া হতে পারে, আর শক্ত হলে সেমিনোমা বা নন-সেমিনোমা ধরনের টিউমার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে-কোনো ক্ষেত্রে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, অণ্ডকোষে হঠাৎ ব্যথা হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যা অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
লেখক : নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার লি. মিরপুর-১, ঢাকা
