লিভার তথা যকৃত আমাদের শরীরের একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ এবং খাদ্য হজমে সাহায্য করে। তাই একে সুস্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস, বর্ধিত মানসিক চাপের কারণে যকৃত-সম্পর্কিত রোগ দ্রুত বাড়ছে। আগে এই সমস্যা প্রধানত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যেত, কিন্তু এখন তরুণ এবং শিশুরাও এতে আক্রান্ত হচ্ছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিভারের রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণগুলো সহজে বোঝা যায় না। এ কারণেই চিকিৎসকেরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং লিভারের কার্যক্রম পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয়ে যায় এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। বলছেন ভারতের বিশেষজ্ঞ এস কে সারিন।
লিভার তথা যকৃত নষ্ট হতে শুরু করলে এর প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়ে চোখের মাধ্যমে। যদি চোখের সাদা অংশ হলুদ হতে শুরু করে, তবে একে সাধারণ দুর্বলতা বা ক্লান্তি বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এটি শরীরে বিলিরুবিন নামক পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। শরীরে পুরনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গেলে বিলিরুবিন তৈরি হয়। সাধারণত, যকৃত এই পদার্থটিকে শরীর থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। কিন্তু, যখন যকৃত ঠিকমতো কাজ করে না, তখন শরীরে বিলিরুবিন জমতে শুরু করে। এর প্রভাব প্রথমে চোখে দেখা যায়, যার ফলে চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া বেশ কিছু গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জন্ডিস, হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার এবং লিভারের সংক্রমণের মতো সমস্যা। যদি ত্বকের সঙ্গে চোখও হলুদ হয়ে যায়, প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যায় এবং আপনি ক্রমাগত দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে আপনার অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এছাড়াও অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা ও বমিভাব, হাত-পা ফুলে যাওয়া, মলের রঙ পরিবর্তন হওয়া, পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যথা এবং পেট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে বুঝতে হবে যকৃত খারাপ হতে শুরু করেছে। লক্ষণগুলো বুঝতে পারলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
যকৃতের সুস্থতায় করণীয়
যকৃতের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অপরিহার্য। প্রতিদিন সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, শস্যদানা এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে যকৃত শক্তিশালী হয়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ভাজা খাবার, মিষ্টি, প্যাকেটজাত-প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অ্যালকোহল গ্রহণ যকৃতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা ফ্যাটি লিভার এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
যকৃতের সুস্থতায় শরীরের ওজন ঠিক রাখাও জরুরি। স্থূলতাকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই নিয়মিত ব্যায়াম এবং সক্রিয় থাকা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়াও, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য। কারণ এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
