এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো- সঠিক বসার ভঙ্গি বা পোশ্চার ঠিক রাখা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি চালানোর সময় সিট এমনভাবে সেট করতে হবে, যাতে মেরুদণ্ড সোজা থাকে এবং কোমর ভালোভাবে সাপোর্ট পায়। কারণ সিট খুব বেশি পিছনে বা সামনে হলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এ ক্ষেত্রে হাঁটু সামান্য বাঁকা থাকবে এবং পা সহজে প্যাডেলে পৌঁছাতে পারবে- এভাবে সিট ঠিক করা উচিত এবং কোমরের পেছনে ছোট একটি লাম্বার সাপোর্ট বা কুশন ব্যবহার করলে কোমরের চাপ অনেকটাই কমে। দ্বিতীয়ত, স্টিয়ারিং ধরার অবস্থানও পেশির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে । অনেকেই কাঁধ উঁচু করে বা হাত অতিরিক্ত টানটান করে স্টিয়ারিং ধরেন, যা ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে । তাই কাঁধ শিথিল রেখে এবং কনুই সামান্য বাঁকা অবস্থায় স্টিয়ারিং ধরা উচিত, যেন ঘাড়ের পেশি অতিরিক্ত টান থেকে রক্ষা পায়।
তৃতীয়ত, একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি না চালিয়ে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া জরুরি। প্রতি ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিটের বিরতি নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে একটু হাঁটা, শরীর স্ট্রেচ করা এবং ঘাড়-কোমর হালকা নড়াচড়া করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং পেশির শক্তভাব কমে যায় । চতুর্থত, ঘাড়, কোমর ও পিঠের পেশি শক্তিশালী রাখার জন্য প্রতিদিন হালকা স্ট্রেচিং, হাঁটা, যোগব্যায়াম কিংবা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করা খুবই কার্যকর; বিশেষ করে কোর মাসল শক্তিশালী থাকলে কোমরের ব্যথা অনেকাংশে কম হয়।
পঞ্চমত, দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভিংয়ের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া উচিত। কারণ ক্লান্ত শরীরে গাড়ি চালালে শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ে না, পেশির টানও প্রবল হয়। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম শরীরকে আরাম দেয় এবং ব্যথার সম্ভাবনা কমায়। ষষ্ঠত, মোবাইল ফোন কাঁধে চেপে কথা বলা বা গাড়ি চালানোর সময় মাথা একদিকে ঝুঁকিয়ে রাখা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ এতে ঘাড়ের পেশিতে অসম চাপ পড়ে এবং সার্ভাইক্যাল সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। সবশেষে, যদি ঘাড় বা কোমরের ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি অনুভূত হয়, অবশ লাগে অথবা ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তবে অবহেলা না করে দ্রুত একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, গাড়ি চালানো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হলেও ভুল অভ্যাসের কারণে তা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই সচেতনতা, সঠিক ভঙ্গি এবং নিয়মিত ব্যায়ামই পারে ঘাড় ও কোমর ব্যথা থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে।
লেখক : ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ এবং চিফ কনসালট্যান্ট ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা
