দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য আমরা সাধারণত জিমে যাওয়া বা কঠোর শরীরচর্চার ওপর জোর দেই। তবে সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, দীর্ঘায়ু হওয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম শরীরচর্চার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘কমিউনিকেশনস মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাটি মানুষের দৈনন্দিন রুটিন কিভাবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে নতুন আলোকপাত করেছে।
গবেষকরা টানা তিন বছর পাঁচ মাস ধরে ২৪৪টি অঞ্চলের প্রায় ৭১ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ম্যাট্রেসের নিচে থাকা স্লিপ সেন্সর এবং ফিটনেস ট্র্যাকারের মাধ্যমে তাদের ঘুমের সময় ও শারীরিক সক্রিয়তা পরিমাপ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। এর একটি বাদ দিয়ে অন্যটি দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে হতাশাজনক তথ্য হলো, মাত্র ১২.৯ শতাংশ মানুষ আদর্শ রুটিন অর্থাৎ রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম এবং দিনে অন্তত ৮ হাজার কদম হাঁটার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছেন।
গবেষণায় অলস জীবনযাত্রার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। দেখা গেছে, প্রায় ১৬.৫ শতাংশ মানুষ দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমান এবং ৫ হাজার কদমেরও কম হাঁটেন।
এছাড়া প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ সুস্থ থাকার জন্য ন্যূনতম যে গাইডলাইন—৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম এবং ৫ হাজার কদম হাঁটা—তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
গবেষক জশ ফিটন জানান, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব কেবল দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিই করে না, বরং এটি পরের দিনের শারীরিক কর্মক্ষমতা ও অনুপ্রেরণাও কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ, রাতের ঘুম ঠিক না হলে শরীর পরের দিন ব্যায়াম করার শক্তি বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
অনিদ্রা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার এই সংমিশ্রণ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, বিষণ্ণতা এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে ঘুমের সঙ্গে আপস করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পেতে শরীরচর্চার পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।