শীতকালে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি দেখা যায়, তা হলো শুষ্ক চোখ বা ড্রাই আই সিনড্রোম। ঠান্ডা বাতাস ও কম আর্দ্রতার কারণে চোখের স্বাভাবিক অশ্রুর পরিমাণ কমে যায়। ফলে চোখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি, বালির মতো অনুভূতি, লালভাব এবং কখনও কখনও ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ধুলাবালি ও ঠান্ডাজনিত কারণে চোখের অ্যালার্জি, কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা, চোখে অতিরিক্ত পানি পড়া এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণও এ সময় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
শীতকালে চোখের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো গ্লুকোমা। এ সময় চোখের ভেতরের চাপ বা আইওপি ওঠানামা করতে পারে, যা আগে থেকেই গ্লুকোমায় আক্রান্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। গ্লুকোমাকে বলা হয় চোখের নীরব ঘাতক। কারণ এটি শুরুতে কোনো ব্যথা বা স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেয়। শীতকালে নিয়মিত ফলোআপে অনীহা, চোখের ওষুধ ঠিকমতো ব্যবহার না করা এবং ঠান্ডাজনিত রক্তনালির পরিবর্তনের ফলে গ্লুকোমা রোগীর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে চল্লিশ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী এবং পরিবারের কারও গ্লুকোমার ইতিহাস থাকলে তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
শীতকালে চোখ সুস্থ রাখতে কিছু সাধারণ অভ্যাস বড় বিপদ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। বাইরে বের হলে সানগ্লাস বা সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করা, চোখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা, ধুলাবালি এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লুকোমায় আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের ফলোআপ বজায় রাখা অবশ্যই প্রয়োজন।
চোখে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ধরে লালভাব বা ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চোখের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বছরে অন্তত একবার পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা গ্লুকোমাসহ বিভিন্ন চোখের রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সবশেষে বলা যায়, শীতকাল উপভোগ্য হলেও চোখের জন্য এটি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক যত্নই আমাদের অমূল্য দৃষ্টিশক্তিকে আজীবন রক্ষা করতে পারে। মনে রাখতে হবে, চোখ ভালো থাকলে জীবনও আলোয় ভরে ওঠে। তাই এই শীতকালে নিজের ও পরিবারের চোখের যত্ন নিন, অন্যদেরও সচেতন করুন এবং সুস্থ থাকুন।
লেখক : অধ্যাপক এবং গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ
পরিচালক, বাংলাদেশ আই হাসপাতাল
লিমিটেড, মালিবাগ মোড়, ঢাকা
