হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে আগামী ৩ মে থেকে হামের টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ রোববার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১২ এপ্রিল (রোববার) থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘৩ মে থেকে বাকি জেলা ও উপজেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হবে, যেন শিশুরা ঝুঁকিতে না থাকে।’
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। হাম এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনার মহামারির চেয়েও কম উদ্বেগজনক নয়।
করোনাকালে ব্যয় না হওয়া ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে হামের ভ্যাকসিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৮২ শতাংশ রোগী ৫ বছরের কম হওয়ায় তাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের পরে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।
এ সময় অতীতের সরকারগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরীক্ষা অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত রোগীদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। তাই আমরা বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আজ থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
‘তবে এই বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। অসুস্থ শিশু ছাড়া বাকি সবাইকে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর যারা অসুস্থ, তাদের কেবল ভিটামিন ‘এ’ প্রদান করা হবে’, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফ এসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি বলে শনাক্ত করেছে। এই এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শেষ করার পর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
যে ৩০ উপজেলায় রোববার হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো- বরগুনা (বরগুনা পৌরসভা ও সদর), পাবনা (পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (গাজীপুর সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (যশোর পৌরসভা ও সদর), নাটোর (নাটোর সদর), মুন্সীগঞ্জ (মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং), মাদারীপুর (মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি), শরীয়তপুর (জাজিরা)।
