মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে দেশের জন্য সব ধরনের টিকার বড় মজুত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, ‘আজকের চালানে ১৫ লাখ ডোজ টিকা একসঙ্গে দেশে এসেছে। পাশাপাশি ৯ হাজার টিডি-টিটাস সিরিজের টিকাও গ্রহণ করা হয়েছে। এটি একটি রেকর্ড।’
আজ বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আসা হাম-রুবেলা টিকার চালান গ্রহণ শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম এখন নিয়মিত ধারায় চলবে এবং প্রতি সপ্তাহে নতুন করে টিকার চালান দেশে পৌঁছাবে।
তিনি জানান, আগামী ১০ মে এক কোটি ৮ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, ওপিভি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেশে আসবে এবং তা সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ বাফার স্টক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দেশে টিকার কোনো সংকট নেই। স্টক ঘাটতির কোনো আশঙ্কাও নেই।’ এজন্য তিনি ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত মাসের ৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে ৯৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাম মোকাবিলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকা দেওয়ার পর শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে টিকা সংকটের একটি বড় কারণ ছিল পর্যাপ্ত মজুত না থাকা এবং নিয়মিত ক্যাম্পেইন না করা। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
