English

22 C
Dhaka
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
- Advertisement -

স্ক্যাবিস ও দাদের চিকিৎসায় ব্যর্থতা ও আমাদের করণীয়

- Advertisements -
ডা. মো. মোশাররফ হোসেন: চিকিৎসা ব্যর্থতা বলতে বোঝায় এমন অবস্থা, যখন কোনো রোগের চিকিৎসায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না এবং রোগীকে নতুন বা ভিন্ন চিকিৎসা নিতে হয় কিংবা আগের চিকিৎসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হয়। স্ক্যাবিস একটি পরজীবী সংক্রমণজনিত রোগ, যা ঝধৎপড়ঢ়ঃবং ংপধনরবর নামক মাইট দ্বারা সৃষ্ট। অপরদিকে দাদ একটি ছত্রাকজনিত বা ফাংগাল সংক্রমণ। উভয় রোগই সংক্রামক, তবে স্ক্যাবিস তুলনামূলকভাবে বেশি ছোঁয়াচে।

এ দুটি রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘসূত্রতা বা ব্যর্থতার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিলে সফলতা অর্জন সম্ভব। চিকিৎসা ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হলো- অসম্পূর্ণ চিকিৎসা। অনেকেই সঠিক নিয়মে এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ওষুধ সেবন করেন না, একটু উন্নতি হলেই ওষুধ বন্ধ করে দেন। এতে রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না, আবার দেখা দেয়। ভুল রোগ নির্ণয়ও এক্ষেত্রে বড় কারণ। আন্দাজে চিকিৎসা করা, দাদকে একজিমা মনে করে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা বা অ্যালার্জি ভেবে স্টেরয়েড ও অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করলে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। নিজে নিজে বা ফার্মেসির কর্মচারীর পরামর্শে অপ্রয়োজনীয় ও ভুল ওষুধ সেবন করাও চিকিৎসা ব্যর্থতার জন্য দায়ী।

Advertisements

পরিবেশগত কারণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষি ও পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েডের অতিরিক্ত ব্যবহার জীবাণুর মধ্যে প্রতিরোধক্ষমতা (রেজিস্ট্যান্স) সৃষ্টি করে। পরে এই প্রতিরোধী জীবাণু মাটি, পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে এবং প্রচলিত ওষুধে সাড়া কম দেয়।

এছাড়া জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া, পুনঃসংক্রমণ, সংক্রমণের উৎস শনাক্ত ও চিকিৎসা না করা, অপরিচ্ছন্নতা, রোগীর অসচেতনতা, অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা গ্রহণ এবং দারিদ্র্যের কারণে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্পন্ন করতে না পারাও চিকিৎসা ব্যর্থতার কারণ। অনেক সময় ওষুধের উচ্চমূল্য, চিকিৎসকের ফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে চিকিৎসা করা হয় না এবং সংক্রমণ থেকে যায়।

স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় সফলতা আনতে হলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক রোগ নির্ণয় করে যথাযথ ওষুধ গ্রহণ করতে হবে এবং সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করে পরিবারের সকল সদস্য, মেস বা বোর্ডিংয়ের বাসিন্দাদের একযোগে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। পুনঃসংক্রমণ রোধে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর ও তোয়ালে আলাদা রাখতে হবে এবং অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। যেসব ওষুধে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়েছে বলে জানা আছে, সেগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে সচেতনভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

Advertisements

দাদ বা ফাংগাল সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করা অপরিহার্য। দাদের কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এসব ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়ম মেনে চলাই স্ক্যাবিস ও দাদের চিকিৎসায় সফলতার মূল চাবিকাঠি। আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং সুস্থ জীবনযাপনের পথে অগ্রসর হই।

লেখক : চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/y3y3
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন