৯০ মিনিটের দীর্ঘ ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঞ্চিত ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রস্তাব আপাতত প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুতিন যেন ইরানের পরমাণু সমস্যা সমাধানের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের দিকে বেশি মনোযোগ দেন, সেটিই তিনি বেশি পছন্দ করবেন।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুদ আছে, তা পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গত আট বছরে, বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর, ইরান প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড বা ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে তেহরানের কাছে ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ। কারিগরিভাবে এই পর্যায় থেকে ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ বা অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছানো খুবই সহজ এবং স্বল্প সময়ের ব্যাপার।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে পরমাণু ধূলিকণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্য নিয়েই ইরান সরকারের বিরুদ্ধে গত ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম বর্তমানে কোথায় আছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী এই মজুদের বড় অংশ ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সে থাকার কথা। গত বছর জুন মাসে এবং চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় এই কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইএইএ পরিদর্শকরা সেখানে সরাসরি যেতে না পারায় প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান আইএইএ’র সাথে সব ধরনের সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে শুধুমাত্র স্যাটেলাইটের ওপর ভিত্তি করেই এই পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজর রাখতে হচ্ছে বিশ্ব সংস্থাকে।
