পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতিকে ঘিরে কলকাতাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়। সেই আয়োজনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে কলকাতায় পৌঁছেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সকাল ১১টার পর কলকাতা বিমানবন্দরে নামলে তাকে স্বাগত জানান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে যান অমিত শাহ। সেখানে পূজা-অর্চনা শেষে নিউ টাউনের একটি হোটেলে ফিরে আসেন তিনি। একই দিনে কলকাতায় পৌঁছেছেন প্রেম সিং তামাং।
দক্ষিণেশ্বর থেকে ফিরে নিউ টাউনের হোটেলে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক ঘরোয়া বৈঠকে বসেন অমিত শাহ। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী ২০৭ জন বিধায়ককে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠক থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। এ কাজে অমিত শাহকে সহায়তা করতে উপস্থিত থাকবেন মোহন চরণ মাঝি।
এদিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে তিনটি পৃথক মঞ্চ। মাঝের মূল মঞ্চে নতুন সরকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল। শপথ শেষে স্বাক্ষরের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ রাইটিং ডেস্ক। মঞ্চের বাঁ পাশে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডান পাশে থাকবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। অন্য দুটি মঞ্চে বসবেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যাকেই নির্বাচিত করা হবে, শুক্রবার সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে রাজভবনে যাবেন তিনি। সেখানে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানানো হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনসহ বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বুধবার ছিল মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তৃতীয় মেয়াদের শেষ দিন। সাংবিধানিক সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার ‘খ’ উপধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল আর এন রবি ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা না দিলেও মমতা ব্যানার্জি এখন আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নন।
