সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কলকাতার মেয়রের পর থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আগাম সম্মতি নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতার মেয়র এর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
পদত্যাগের কথা ঘোষণা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের কর্মীদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, কেন আমি পদত্যাগ করছি? তার কারণ, ফিরহাদ হাকিম কেউ না, আমাদের প্রাতস্মরণীয় যেসব ব্যক্তিরা এই চেয়ারে বসেছিলেন সেই চেয়ারটায় একটা আলাদা সম্মান আছে। আমি যখন নিজে মেয়র ছিলাম দাপুটের সঙ্গে চালিয়েছি। এখন কাজ করাটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারের অবমাননা করতে পারিনা।
চেয়ার ধরে বসে রইলাম, ধার নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। সেই মানুষগুলো যারা আমার থেকেও দাপুটে যারা সেই চেয়ারটাকে চালিয়ে গেছে তাদের প্রতি অসম্মান হবে। তাই আমি পদত্যাগ করছি এবং শুভেচ্ছা জানাই আগামী দিনে যারা দায়িত্ব নেবে পৌরসভা চালাবে হয়তো আমার থেকেও ভালো মেয়র হবে। অনেকেই সমালোচনা করবে কিন্তু স্বচ্ছভাবে পৌরসভা চালান। শুভেচ্ছা দিয়ে আজকে এই চেয়ার আমি খালি করে দিলাম।
মমতা ব্যানার্জীর কাছে অনুমতি নিয়েই কি এই পদত্যাগ। প্রশ্নের জবাবে ফিরহাদ হাকিম বলেন, আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছে আগেই অনুমতি চেয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম সসম্মানে চলে যেতে চাই এই চেয়ারে বসে যে কাজটা আমি করেছি এখন সেই চেয়ারের অমর্যাদা হচ্ছে। উনি আমাকে বললেন ঠিক আছে।
ফিরহাদ হাকিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পৌরসভার সাধারণ কাজটুকুও করতে পারছিলাম না। আর সেই ক্ষমতার লোভে শুধু শুধু চেয়ার আঁকড়ে আমি বসে থাকতে পারবো না। যতদিন এই পদে ছিলাম, সততার সঙ্গে মানুষের প্রতিটি ছোট বড় সমস্যার সমাধান এবং সব সময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছি।
গত কয়েকদিন ধরেই ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা ঘিরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুনাল ঘোষের মন্তব্যে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কুনাল ঘোষ বলেন, ফিরহাদ হাকিম আগে একাধিকবার তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছে মেয়র পর থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন নেত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কলকাতার মেয়র পদে আসীন ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সব কাজের খতিয়ান দিয়ে কলকাতার মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
