প্রেমের জন্য যে দেয়াল, শিকল কিংবা কারাগার কোনোটাই শেষ কথা নয়, তারই এক বিস্ময়কর উদাহরণ দেখা গেল ভারতে। রাজস্থানের আলওয়ারে কারাগারের ভেতরে গড়ে ওঠা এক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রূপ নিতে যাচ্ছে। এই বিয়ের বর-কনে দুজনই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনি।
রাজস্থান হাইকোর্ট বিয়ের আয়োজনের জন্য তাদের ১৫ দিনের জরুরি প্যারোলে মুক্তি দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং হনুমান প্রসাদ আজ শুক্রবার আলওয়ার জেলার বারোদামেভে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রিয়া শেঠের অপরাধকাহিনি দেশজুড়ে আলোচিত। ২০১৮ সালে টিন্ডার অ্যাপে পরিচয়ের মাধ্যমে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন তিনি। পরে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়। দুষ্যন্তের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ রুপি দাবি করা হলেও ৩ লাখ রুপি পাওয়ার পর পুলিশের সন্দেহের আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে দুষ্যন্তের মুখে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং মরদেহ একটি সুটকেসে ভরে আমের পাহাড় এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রিয়া শেঠের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন।
বর হনুমান প্রসাদের অপরাধ আরও ভয়াবহ। ২০১৭ সালের অক্টোবরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিকার প্ররোচনায় তিনি এক ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটান। প্রেমিকার স্বামী বনওয়ারী লালকে হত্যা করার পর, সেই রাতে প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে ওঠা ঘুমন্ত চার শিশুকেও নির্মমভাবে হত্যা করেন হনুমান। এক রাতেই পাঁচজনকে খুনের এই ঘটনা আলওয়ার জেলার ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস অপরাধ হিসেবে পরিচিত।
প্রায় ছয় মাস আগে সাঙ্গানের ওপেন জেলেই প্রথম দেখা হয় প্রিয়া ও হনুমানের। সেখান থেকেই কথোপকথন, পরে সম্পর্ক গভীর হয়। দুজনই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও একে অপরের সঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের অনুমতির জন্য আদালতের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় সীমিত সময়ের প্যারোল মঞ্জুর করেন।
আইন, অপরাধ ও মানবিক অনুভূতির জটিল মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই বিয়ে এখন রাজস্থানের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
