ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একটি বিবৃতি প্রচার করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো। তবে ওই বিবৃতিতে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি কিভাবে মারা গেলেন এবং কে তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, সেসব নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের এই সংকটপূর্ণ সময়ে প্রশ্ন হলো, খামেনির মৃত্যুতে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন!
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিসিরির খবর, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি, আলিরেজা আরাফি, মেহদি মিরবাগেরি ও হাসান খোমেনি।
এদের মধ্যে মোজতবা খামেনি প্রভাবশালী ইসলামিক রেভুলশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত। তবে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার শিয়া ধর্মীয় কাঠামোতে অপছন্দনীয় এবং তার আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ নেই।
আলিরেজা আরাফি বিশেষজ্ঞ পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত হলেও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা সীমিত। আর কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত মেহদি মিরবাগেরি। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা খোমেনির নাতি হাসান ধর্মীয় বৈধতা রাখলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে তার প্রভাব কম।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ৮৮ সদস্যের নির্বাচিত ধর্মীয় পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালে এই কাজটি একবারই করা হয়েছিল।
রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হন আলী খামেনি, তিনিই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে পুরুষ, উচ্চপদস্থ আলেম, রাজনৈতিক দক্ষ ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগত হতে হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে করণীয় বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন সদস্যের একটি পরিষদ সাময়িকভাবে দেশের দায়িত্ব নেবে। এই পরিষদে থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম। তারা অন্তর্বর্তীকালীনভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পরিচালনা করবেন যতক্ষণ না নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন, তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
প্রসঙ্গত, ইরানজুড়ে শনিবার থেকে অতর্কিত হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরানে সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছাড়াও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও আইআরজিসির প্রধান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এদিকে বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌথ হামলায় ইরানে অন্তত ৪০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
