তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল টিভিকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিরোধী শিবিরের কোনো অংশ জোটে যোগ দিলেও বামপন্থি দলগুলো সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করবে এমন আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই।
আজ বুধবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
দলের নেতা আধব অর্জুন বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এখনও বামপন্থি দলসহ মিত্রদের সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।’ তিনি বলেন, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক আমন্ত্রণ নয়, মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছাও।’
বর্তমানে কংগ্রেস সরকারে অংশ নিলেও বামপন্থি দুই দল (সিপিআই ও সিপিএম), বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচ্চি এবং ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগ বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তবে সরকার সম্প্রসারণ নিয়ে জল্পনা বাড়লেও অর্জুন এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তার দাবি, ‘এ নিয়ে খুব শিগগিরই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা দেবেন।’
রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল টিভিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১০ আসন দূরে ছিল। ফলে সরকার গঠনের জন্য কংগ্রেস ও কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এই অবস্থায় সরকার টিকিয়ে রাখতে জোটের সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বড় আঞ্চলিক দলের সম্ভাব্য সমঝোতার খবরও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বামপন্থি দল ও আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন বিজয়। এর মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগত থেকে উঠে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি।
আধব অর্জুন দাবি করেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই মিত্র দলগুলো একজোট হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত বিশেষ করে জাতীয় একটি দলের সঙ্গে জোট তাদের রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের অনেক কর্মী ও বিধায়কও সেই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে ক্ষমতাসীন দলকে সমর্থন দিয়েছেন। সাম্প্রতিক আস্থা ভোটে বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক বিধায়ক সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানে টিকে আছে। তবে বিরোধী দলের বিদ্রোহী অংশ সরকারকে সমর্থন দিলে সেই অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
