English

24 C
Dhaka
বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
- Advertisement -

তেহরানে পৌঁছার আগেই ধরা পড়ে বিপুল অস্ত্র, ভেস্তে যায় ইসরায়েলের পরিকল্পনা

- Advertisements -

সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। দেশটির রাজধানী তেহরানসহ গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার ইরানি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। হুমকি দিয়েছেন হামলার। ইসরায়েলও নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের দিয়ে বিক্ষোভে উস্কানি দেওয়ার কথা জানায়। এভাবেই ভয়াবহ রূপ নেয় ওই আন্দোলন।

এদিকে, তেহরানের উদ্দেশে যাওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক অস্ত্র জব্দ করে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে মোসাদ-প্রশিক্ষিত একটি সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই চক্র প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছিল বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বিদেশি মদদপুষ্ট সহিংসতায় রূপ নেয় বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমান্ড (ফারাজা) এক বিবৃতিতে জানায়, বুশেহর প্রদেশে দাঙ্গাকারীদের কাছ থেকে ৬০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফারাজা জানায়, এসব অস্ত্র তেহরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। অভিযানের সময় দু’জন সন্ত্রাসীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে দেশটির গোয়েন্দা বাহিনী একটি ‘বিপজ্জনক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ শনাক্ত করে এর সদস্যদের গ্রেফতার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য ছিল মানুষ হত্যা করা এবং বিক্ষোভকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ দেওয়া।

স্থানীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সন্ত্রাসী চক্রটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মাধ্যমে উন্নত নগর যুদ্ধ কৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল। সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বহু সন্ত্রাসী অপরাধে জড়িত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত মূল হোতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও নগর যুদ্ধের সরঞ্জাম পাওয়ার পর চক্রটির সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সন্ত্রাসী চক্রটির তৎপরতার সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব ছবি পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায় একে-৪৭ রাইফেল, শটগানসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও স্যাটেলাইট ফোনের মতো যোগাযোগ সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে দাবি ইরানি কর্তৃপক্ষের।

এছাড়া চক্রটির সদস্যরা সামরিক ও পুলিশ সদর দফতরে হামলা চালায়, অস্ত্র লুট করে এবং নগর যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে সেগুলো বিতরণ করে, যাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ইরানের কর্মকর্তারা এসব দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সরাসরি মাঠপর্যায়ে জড়িত ছিল, যা সংস্থাটি শিকারও করেছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি টুইটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি সেখানে লিখেছিলেন, “রাস্তায় থাকা প্রতিটি ইরানিকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আর তাদের পাশে হাঁটা প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকেও।”

এছাড়া ফারসি ভাষায় দেওয়া একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মোসাদ দাঙ্গাকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, “এখনই সময়। একসঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে আসুন।” পোস্টে আরও বলা হয়, “মোসাদ এজেন্টরা দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে শুধু দূর থেকে বা কথার মাধ্যমে নয়, মাঠপর্যায়েও রয়েছে।”

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/wevi
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন