ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা এখন দেশটির রাজপথ থেকে শুরু করে জরুরি সেবা কেন্দ্রগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের কয়েক দিনেই প্রাণঘাতী বেশ কিছু হামলার সাক্ষী হয়েছে ইসরায়েল, যা উদ্ধারকর্মীদের জন্য এক চরম অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্য ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে একটি ভয়াবহ রকেট হামলায় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এই দফার সংঘাতে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে রকেট বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্যারামেডিক ওরি লাজারোভিচ যুদ্ধের ময়দানে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনার পরপরই তারা নিরাপদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রতিটি মুহূর্ত যেখানে মূল্যবান, সেখানে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজেদের হেলমেট এবং ফ্ল্যাক জ্যাকেট পরে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। বছরের পর বছর ধরে চলা রকেট এবং ড্রোন হামলার অভিজ্ঞতায় ইসরায়েলের এই প্রথম সারির উদ্ধারকর্মীরা এখন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত ও সুপ্রশিক্ষিত।
২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত হওয়া ১২ দিনের প্রথম যুদ্ধের পর থেকে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের মতে, তেহরানের পক্ষ থেকে বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্লাস্টার মিউনিশন বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে আহতের সংখ্যা এবং ক্ষতের গভীরতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেভিড আদম বা এমডিএ-এর কর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের পুরো বহর দিনরাত ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জরুরি উদ্ধার কাজের জন্য বর্তমানে ইসরায়েল জুড়ে প্রায় ২,০০০ অ্যাম্বুলেন্স এবং ৬০০টি বিশেষ যান ও মোটরসাইকেল সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। ওরি লাজারোভিচ জানান যে, দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে তাদের বাহিনীর শতভাগ সদস্য এখন মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত। যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে তারা কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই আধুনিক উদ্ধার ব্যবস্থার অবকাঠামো জোরদার করা হয়।
রামলার এই বিশাল এমডিএ সদর দপ্তরটি ২০২৪ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল, যা আজ ইসরায়েলের আপদকালীন সেবার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রের প্রবেশপথে ঝুলছে একটি শোকাবহ পোস্টার, যেখানে হামাসের সেই হামলায় নিহত সাতজন স্বেচ্ছাসেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বর্তমানে ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে জরুরি কলের সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল উদ্ধার সংস্থাটি পরিচালনা করার জন্য ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে কোনো সরাসরি ভর্তুকি পাওয়া যায় না। প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটির অর্থায়ন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত অনুদান এবং স্বাস্থ্য বীমার অর্থ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ের অনুদান এবং মানুষের সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই এই সংস্থাটি তাদের বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
