আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ফিলিপাইনের সিনেট ভবনে নাটকীয়ভাবে এক পুলিশি ধাওয়া থেকে বেঁচে ফিরলেন সাবেক পুলিশ প্রধান ও বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড ‘বাতো’ দেলা রোসা।
সোমবার ফিলিপাইনের সিনেট ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দৌড়ে পালিয়ে নিজের কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে দেলা রোসাকে। একইদিন স্থানীয় সময় বিকালের দিকে আইসিসি দেলা রোসার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি গোপন পরোয়ানা জনসমক্ষে প্রকাশ করে। এরপরই ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এজেন্টরা তাকে ধরতে সিনেট ভবনে হানা দেয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এজেন্টদের ধাওয়া খেয়ে দেলা রোসা সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত দৌড়ে পালাচ্ছেন এবং এক পর্যায়ে তাড়াহুড়োয় হোঁচটও খান। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিনেট কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন, যেখানে নতুন সিনেট প্রেসিডেন্ট অ্যালান পিটার কায়েতানো তাকে ‘প্রতিরক্ষামূলক হেফাজতে’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সিনেট ভবন লকডাউন করে দেন।
আইসিসি’র প্রাক-বিচারিক চেম্বার জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের আলোচিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ অভিযান চলাকালীন দেলা রোসার নির্দেশে অন্তত ৩২ জনকে হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে এই অপরাধের ‘পরোক্ষ সহ-পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই একই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতার্তে বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-এ আইসিসি’র হেফাজতে আটক রয়েছেন।
দেলা রোসা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ফেসবুক লাইভে এসে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই বিচার রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তিনি কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন।
অন্যদিকে, ফিলিপাইনের পুলিশ জানিয়েছে, তারা আইসিসি’র পরোয়ানা সরাসরি কার্যকর করবে না যদি না দেশটির নিজস্ব আদালত থেকে কোনো আদেশ আসে।
