বিজ্ঞানীরা পেরুর জঙ্গলে খুঁজে পেলেন এক নতুন প্রজাতির ব্যাঙ। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গেই সেই ব্যাঙের টিকে থাকা নিয়ে বড় শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খবর অনুসারে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর সান মার্টিন অঞ্চলের পাহাড়ি বনাঞ্চলে এই ব্যাঙটির সন্ধান মেলে। পেরু ও ফ্রান্সের একদল বিজ্ঞানী স্থানীয় আদিবাসী গাইডদের সহায়তায় সেখানে গবেষণা চালান। এই ব্যাঙের নাম রাখা হয়েছে ওরিওবেটস শাংকুসাচা। কিচুয়া-লামিস্তা ভাষায় ‘শাংকু সাচা’ মানে হলো ‘বনের হৃদয়’। নামটি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় আদিবাসীদের সম্মানে এবং বনের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে।
এই ব্যাঙটি আকারে খুব ছোট, প্রায় এক ইঞ্চি লম্বা। রঙ গাঢ় বাদামি, চোখ সোনালি। শুকনো পাতা, শেওলা ও ঝোপঝাড়ের ভেতরে সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারে। সাধারণত রাতে বের হয় এবং মাটির ওপর চলাফেরা করে।
এই প্রজাতির ব্যাঙ থাকে ক্লাউড ফরেস্টে (উঁচু পাহাড়ি বন, যেখানে প্রায়ই কুয়াশা থাকে)। এসব বন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৪৩০ ফুট বা তার বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। সমস্যা হলো, এই বন এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ওই অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ বন ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। কফি চাষ, গবাদিপশুর চারণভূমি তৈরি এবং অবৈধ গাছ কাটাই এর প্রধান কারণ। বন কমে যাওয়ায় ব্যাঙটির থাকার জায়গা খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে।
এ কারণে গবেষকরা বলছেন, নতুন এই ব্যাঙ প্রজাতিকে এখনই বিপন্ন (বিলুপ্তির ঝুঁকিতে) হিসেবে ধরতে হবে। সময়মতো বন রক্ষা করা না গেলে, ‘বনের হৃদয়’ নামের এই ব্যাঙ খুব দ্রুতই হারিয়ে যেতে পারে।
