পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজেছে। রোববার (১৫ মার্চ) ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল—দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ মে নির্ধারিত হবে বাংলার মসনদ কার দখলে যাচ্ছে। খবর এনডিটিভির
প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করোনার আবহে আট দফায় ভোট হয়েছিল। তবে এবার রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধে দফার সংখ্যা কমিয়ে দুইয়ে আনা হয়েছে। দীর্ঘ নির্বাচনী সূচি ব্যালট যুদ্ধের খরচ বাড়ায় এবং ভোটারদের উৎসাহ কমিয়ে দেয়—এমন যুক্তিতেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে বরাবরের মতোই বাড়তি সতর্কতা থাকছে।
৭১ বছর বয়সী তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নামছেন। ১৫ বছরের শাসনবিরোধী হাওয়া (অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি) থাকলেও তার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোই তৃণমূলের প্রধান ভরসা। নির্বাচনী প্রচারে মমতা ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’কে হাতিয়ার করছেন। সম্প্রতি পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা বৃদ্ধি এবং ডিএ ঘোষণার মাধ্যমে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন তিনি।
গত নির্বাচনে ৭৭টি আসন পাওয়া বিজেপি এবার ক্ষমতা দখলের চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচারণাকে পুঁজি করে ঘাসফুল শিবিরকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে পদ্ম শিবির। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং আরজি কর হাসপাতালের ন্যাক্কারজনক ঘটনার মতো ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে তারা আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রশ্নে মমতার সরকারকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বড় এক্স-ফ্যাক্টর হতে পারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর)। তালিকায় প্রায় ৬৬ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা গত নির্বাচনের তৃণমূল ও বিজেপির ভোটের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। তৃণমূল একে ‘বৈধ ভোটারদের অধিকার হরণ’ হিসেবে দেখছে, আর বিজেপি বলছে এটি ‘অনুপ্রবেশকারী’ মুক্ত করার প্রক্রিয়া। এই ভোটার বিয়োজন নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস কোনো আসন না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরেছিল। এবার তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। অন্যদিকে, তৃণমূল-বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে তারা কতটা ভোট কাটতে পারে, তার ওপর অনেক সমীকরণ নির্ভর করছে।
