দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় নেমেছে ভারতের কৃষকসমাজ। ২০২১ সালে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারে নরেন্দ্র মোদির সরকারকে যারা বাধ্য করেছিলেন, সেসব কৃষকনেতা ও তাদের সংগঠন দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জন্য আত্মঘাতী বলেও জানান কৃষক নেতারা। এতে ভারতের চেয়ে ওই দুই দেশ লাভবান হবে বলে অভিযোগ তাদের। এদিকে বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষের পদত্যাগও দাবি করেছেন কৃষকরা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
সংযুক্ত কিষান মোর্চা (এসকেএম), অল ইন্ডিয়া কিষান সভা, ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন, ক্রান্তিকারী কিষান ইউনিয়নসহ (পাঞ্জাব) বিভিন্ন রাজ্যের কৃষক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভারত সরকার পুরোপুরি সমর্পণ করেছে। মার্কিন বহুজাতিক সংস্থার কাছে বিকিয়ে দিয়েছে ভারতের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ। এ কারণে কৃষক সংগঠনগুলো দেশের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের পদত্যাগ দাবি করেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গোয়েল ও সরকার দেশবাসীকে ভুল বোঝাচ্ছেন। বিপথচালিত করছেন। বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করার পর বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দাবি করেন, এই চুক্তিতে ভারত তার কৃষি ও দুগ্ধজাত খাতের স্বার্থ সুনিশ্চিত করেছে। চুক্তির আওতা থেকে এই দুই ক্ষেত্রকে বাদ রাখা হয়েছে।
এসকেএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রীর এই দাবি ও প্রচার মিথ্যা। তিনি যা করেছেন, তা দেশদ্রোহের শামিল। অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত। সংগঠনটি আরও বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে সই না করা।
এসকেএম (অরাজনৈতিক) সংগঠনের নেতা জগজিৎ সিং ডাল্লেওয়াল এক বিবৃতিতে চুক্তির বিরোধিতা করে বলেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন কৃষি ও দুগ্ধজাত খাত সুরক্ষিত রয়েছে। অথচ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন কৃষিজাত ও খাদ্য পণ্যের ওপর থাকা বিভিন্ন অশুল্ক বাধা (নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার) আলোচনার মাধ্যমে দূর করতে ভারত রাজি হয়েছে। ডাল্লেওয়াল আরও বলেন, এই দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী। যৌথ বিবৃতি থেকে এটা স্পষ্ট, মার্কিন চাপের মুখে তাদের কৃষিজাত পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করতে ভারত রাজি হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া কিষান সভার নেতা কৃষ্ণ প্রসাদের মতে, লাল জোয়ার, সয়াবিন তেল ও পশুখাদ্য হিসেবে যা আমদানিতে ভারত রাজি হয়েছে, তাতে কৃষি তো বটেই, দুগ্ধজাত ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যে ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করা হচ্ছে, তাতে ওই দেশগুলোর থমকে যাওয়া অর্থনীতিরই লাভ হবে।
সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট সফল করার পাশাপাশি তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুতুল পোড়াবে। কৃষক সংগঠনের নেতারা জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ফলচাষিদের জন্যও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
