English

25 C
Dhaka
রবিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
- Advertisement -

যুক্তরাষ্ট্র আগেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের চেষ্টা করেছে, সফল হয়নি

- Advertisements -

আর্কটিক অঞ্চলকে আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সামুদ্রিক করিডর। যেটিকে বলা হয় ‘জিআইইউকে’। এই ভৌগলিক অবস্থান, ৮ লাখ ৩৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের গ্রিনল্যান্ড দ্বীপকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এছাড়া গ্রিনল্যান্ডে তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজসহ (রেয়ার আর্থ মিনারেলস) বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে চাওয়ার পেছনে এটি অন্যতম কারণ।

তবে অধিগ্রহণের চেষ্টা শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনই করছে বিষয়টা এমন নয়। দ্বীপটি ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আগ্রহ উনিশ শতক থেকে। ১৮৬৭ সালে তারা রাশিয়ার কাছে থেকে আলাস্কা কিনে নেয়। তখনও তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম এইচ সিউয়ার্ড ডেনমার্কের কাছে থেকে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড কেনার ধারণা উত্থাপন করেছিলেন।

যদিও সে প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন সময় দ্বীপটির ওপর ওয়াশিংটনের নজর থাকার তথ্য সামনে এসেছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ফিলিপাইনসের একটি ভূখণ্ড (যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন) ডেনমার্ককে দেওয়ার বিষয়েও একবার আলোচনা হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান দ্বীপটি কেনার জন্য ডেনমার্ককে ১০ কোটি ডলার দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডেনমার্ক সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

১৮৬৭: আলাস্কা বিক্রি ও আর্কটিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের প্রশাসন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছে থেকে ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কা কিনে নেয়। এরপর জনসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিউয়ার্ড আর্কটিক অঞ্চলের অন্যান্য ভূখণ্ডের দিকেও নজর দেন।

সিউয়ার্ডের অনুরোধে সাবেক অর্থমন্ত্রী রবার্ট জে ওয়াকার যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ভাণ্ডারে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডকে যুক্ত করার সুপারিশ করেন। এর কারণ হিসেবে তখন একটি প্রতিবেদনে তিনি লিখেছিলেন, রাজনীতি ও বাণিজ্যের কথা। এছাড়া, গ্রিনল্যান্ডের বিশাল ভূপ্রকৃতি ও খনিজ সম্পদের কথাও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেন। আরও লিখেন, গ্রিনল্যান্ডের শিলা ও ভূতত্ত্বে বিপুল খনিজ সম্পদ থাকতে পারে। জে ওয়াকারের যুক্তি ছিল, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

কিন্তু তখন ডেনমার্কের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

১৯১০: একটি দুঃসাহসিক প্রস্তাব
সে সময় ফিলিপাইনসের মিনদানাও দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে ছিল। ডেনমার্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিস ফ্রান্সিস ইগান এই দ্বীপের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড নেওয়ার প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি চিঠি লিখেছিলেন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। ইগানের ভাষায়, সেটি ছিল একটি দুঃসাহসিক প্রস্তাব।

প্রস্তাবটি নিয়ে তখন আলোচনা বেশি দূর আগায়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায়। তবে কয়েক বছর পর দ্বীপগুলো জার্মানির নিয়ন্ত্রণে যাওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের কাছে থেকে ড্যানিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (বর্তমান ভার্জিন আইল্যান্ডস) ২৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয়।

১৯৪৬: ১০ কোটি ডলারের প্রস্তাব
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ডেনমার্ক দখল করে। তখন গ্রিনল্যান্ডে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়ায়। বেশ কয়েক বছর পর প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড কেনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সে সময় প্রস্তাবটি গোপন রাখা হলেও সামনে আসে ১৯৯১ সালে। পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি ড্যানিশ পত্রিকা। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ ও কৌশল কমিটির একটি বৈঠকে সবাই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে একমত হন। মে মাসে পররাষ্ট্র দপ্তরের উত্তর ইউরোপ বিভাগের সহকারী প্রধান উইলিয়াম সি ট্রিম্বল দ্বীপটির মূল্য নির্ধারণ করেন। প্রস্তাব দেন, গ্রিনল্যান্ডের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ককে ১০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ দেবে। উইলিয়াম ট্রিম্বল তখন যুক্তি দিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড কিনতে পারলে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি স্থাপন করা যাবে। আর্কটিক অঞ্চল দিয়ে কেউ আক্রমণ করলে ওই ঘাঁটি থেকে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

১৯৪৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বায়র্নস নিউইয়র্কে সফররত ড্যানিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুস্তাভ রাসমুসেনের কাছে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। কিন্তু ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে রাজি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দেয়।

১৯৭৯ সালে একটি গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড স্বশাসন লাভ করে। ফলে ডেনমার্কের কাছে থেকে এর স্বায়ত্তশাসন আরও বৃদ্ধি পায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগ
বিভিন্ন সময় ব্যর্থ হওয়ার উদাহরণ থাকা স্বত্ত্বেও প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় বসে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের চেষ্টা শুরু করেন। তিনি প্রথমবার প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ দেখান ২০১৯ সালে। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পরপরই ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাবটি আবারও উত্থাপন করেন। কিন্তু সেটিও প্রত্যাখ্যাত হয়। প্রায় এক বছর আগে, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এস্টেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি; প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। গত বছরের শুরুতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সরাসরি হুমকি দেন। বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা এটা পেতে যাচ্ছি। কোনো না কোনোভাবে আমরা এটা নেবই।’

চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার তেল ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার বক্তব্য জোরালো করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র না নিলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ডের দখল নেবে। তাই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি গ্রিনল্যান্ড চাইছেন। এবারও ডেনমার্ক বলছে, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।’

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/3vcl
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন