ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা বন্দি সঞ্জয় কুমারের ছেলে বন্দি সাই ভাগীরথ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ১৭ বছর বয়সী এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের হওয়া পকসো মামলার প্রেক্ষিতে আজ শনিবার আইনজীবীদের মাধ্যমে তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে ধরা দেন তিনি। সাই ভাগীরথের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে ‘লুক-আউট’ নোটিশ জারি করার পর এই আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে এক কিশোরীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সেকেন্দ্রাবাদের পেটবশিরবাদ থানায় বন্দি ভাগীরথের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগ অনুসারে, ভাগীরথ ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন করেন। পরবর্তীতে ওই ভুক্তভোগী কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর পুলিশ মামলায় আরও কঠোর ধারা যুক্ত করে এবং ঘটনার তদন্তে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তদন্ত চলাকালীন ভাগীরথ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সাইবারাবাদ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে লুক-আউট সার্কুলার ইস্যু করেছিল।
গ্রেপ্তার এড়াতে বন্দি ভাগীরথ তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে হাইকোর্টের বিচারপতি টি মাধবী দেবী কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ বা স্বস্তি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আইনি পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই আইনজীবীদের পরামর্শে পুলিশের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছেলের আত্মসমর্পণের বিষয়ে একটি বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি আইনজীবীদের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে পুলিশি তদন্তের জন্য হস্তান্তর করেছেন। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমান, সে তাঁর নিজের ছেলেই হোক কিংবা কোনো সাধারণ নাগরিক।
তিনি দাবি করেন, তাঁর ছেলে শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ বলে আসছেন এবং তাঁদের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে আইনজীবীরাও নিশ্চিত করেছিলেন যে মামলায় জামিন পাওয়া যাবে। প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না করে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে তিনি নিজেই ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
