লেবানন ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের এই ‘উল্টো’ সুর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
লেবানন চুক্তির বাইরে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন নেই। তবে তার এই দাবি মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পর ট্রাম্প বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ একটি ‘আলাদা সংঘর্ষ’। তার কথায়, ‘হিজবুল্লাহর কারণে লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়।’
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয়।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভাঙার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। লেভিটের কথায়, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার’।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলজুড়েই প্রযোজ্য, বিশেষ করে লেবাননসহ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সেই বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়।
হরমুজে টোল নয়: যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির একটি প্রধান শর্ত হলো—হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা ফি ছাড়া জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
লেভিট বলেন, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ‘সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে’ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন এবং এতে কোনো অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।
তবে আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলোচনায় ইরান ও ওমান উভয়ের জন্য কিছু ফি আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় ছিল।
ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত পুরো চুক্তিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, লেবাননে হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো আসেনি।
