যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসের বাইরে বন্দুক হামলার ঘটনায় জড়িত আততায়ী সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গোটা বিশ্বে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় এক যুবক হঠাৎ করে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালালে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনাযত এক পথচারীর গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নিহত আততায়ীর নাম নাসির বেস্ট। ২১ বছর বয়সী এ আততায়ী স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা দশ মিনিটের দিকে তিনি হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি একটি নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকিতে গুলি চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনার আগে তাকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী হামলাকারী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তিনি নিজেকে যিশুখ্রিস্টের অবতার বলে দাবি করতেন। এর আগেও বহুবার হোয়াইট হাউসের আশপাশে ঘোরাঘুরি ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হোয়াইট হাউসের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন তিনি।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল সামাজিক মাধ্যমে জানান, হোয়াইট হাউসের কাছে গুলির ঘটনার পর তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং গোপন নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করছে।
গুলি চলার শব্দে হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক সাংবাদিক দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। সংবাদমাধ্যমের এক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি জানান, তিনি ভিডিও ধারণের সময় হঠাৎ টানা গুলির শব্দ শুনতে পান এবং পরে সবাইকে দৌড়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে যেতে বলা হয়।
ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউসে সাময়িক লক ডাউন জারি করা হয়। তবে প্রায় আধা ঘণ্টা পরে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত জুন মাসে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নাসির বেস্টকে জোরপূর্বক মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। পরে জুলাই মাসে তিনি অবৈধভাবে হোয়াইট হাউস এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে আবার গ্রেপ্তার হন। সে সময় আটক অবস্থায় তিনি নিজেকে যিশুখ্রিস্ট দাবি করেন এবং গ্রেপ্তার হতে চাওয়ার কথাও বলেন।
ঘটনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার মাইক জনসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। অপর এক আইনপ্রণেতা কোরি মিলস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং সব নেতার উচিত এর স্পষ্ট বিরোধিতা করা।’
বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা বেটি কলামও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, মতভেদ গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করা উচিত।
